তুরস্কের বিরুদ্ধে যুদ্ধ জোরদার করবে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে)। সোমবার প্রকাশিত বিবিসি’র এক সাক্ষাতকারে পিকেকে নেতা কেমিল বেইক এ কথা বলেন।

পিকেকে’র সঙ্গে দু’বছরের অস্ত্রবিরতি চুক্তি গত বছর ভেঙ্গে যাওয়ার পর তুরস্কের সরকারি বাহিনী দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে কুর্দি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে প্রচন্ড সামরিক অভিযান শুরু করে।

বিবিসি’কে কেমিল বেইক বলেন, কুর্দিরা শেষ পর্যন্ত নিজেদের রক্ষা করে যাবে। পিকেকে তুরস্কের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আরও জোরদার করবে।

এদিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইফ এরদোগান চলতি মাসে বলেছেন, পিকেকে’র বিরুদ্ধে যুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর ৩৫৫ এবং পিকেকে’র পাঁচ হাজার সদস্য প্রাণ হারিয়েছে। তবে নিরপেক্ষ সূত্রে এ তথ্যের সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

সম্প্রতি তুরস্কে চালানো বেশ কিছু হামলার জন্য পিকেকেকে দায়ী করা হয়েছে। বিশেষ করে চলতি বছর আঙ্কারায় দু’টি বোমা হামলার দায় যে গ্রুপটি স্বীকার করেছে তারা নিজেদেকে কুর্দিস্তান ফ্রিডম ফ্যালকনস (টিএকে) হিসেবে দাবি করেছে।

কুর্দিরা তুরস্কের মধ্যে পৃথক কুর্দি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে, এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে বেইক তা অস্বীকার করে বলেন, ‘আমরা তুরস্কের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কোন রাষ্ট্র গঠন করতে চাই না। আমরা চাই না তুরস্ক বিভক্ত হোক। আমরা তুরস্কের মধ্যেই আমাদের নিজস্ব ভূ-খন্ডে স্বাধীনভাবে বসবাস করতে চাই। কুর্দিদের এই অধিকার আদায় না হওয়ার পর্যন্ত সংগ্রাম চলবে।’

তিনি আরো বলেন, পিকেকে কেবল কুর্দিস্তানই নয়, সমগ্র তুরস্কেই যুদ্ধ জোরদারে প্রস্তুত।

বেইক বলেন, এরদোগান চান কুর্দিদের আত্মসমর্পণ। আত্মসমর্পণ না করলে তিনি সকল কুর্দিকে হত্যা করতে চান। তিনি প্রকাশ্যে এ কথা বলেছেন, এটি তিনি গোপন করতে পারবেন না।

উল্লেখ্য, পিকেকে ১৯৮৪ সালে স্বাধীনতার দাবিতে তুরস্ক সরকারের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী বিদ্রোহ শুরু করে। দশকের পর দশক ধরে চলা এই সংগ্রামে এ পর্যন্ত ৪০ হাজার লোক প্রাণ হারিয়েছে।

এমবি