দিল্লিতে মেট্রো রেল পরিষেবায় যে পকেটমাররা ধরা পড়ছেন, তাদের মধ্যে শতকরা ৯৪ জনই মহিলা বলে সরকারি তথ্যে জানা গেছে।

ভারতের রাজধানীতে মেট্রো নেটওয়ার্কে নিরাপত্তার দায়িত্বে আছে যে সিআইএসএফ বা কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনী। তাদের দেওয়া তথ্যেই জানা গেছে সেখানে পুরুষ পকেটমারদের তুলনায় মহিলাদের সংখ্যা অনেকগুণ বেশি।

আর এটা শুধু এ বছর নয়, গত বছরের পরিসংখ্যানও একই কথা বলছে। সিআইএসএফের তথ্যমতে, এ বছর জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মোট ২৯৩ জন মহিলা পকেটমার ধরা পড়েছেন, যেখানে পুরুষ পকেটমারের সংখ্যা মাত্র ২২ জন।

অর্থাৎ, দিল্লি মেট্রোতে পুরুষ পকেটমারের তুলনায় মহিলা পকেটমারের সংখ্যা শুধু বেশি নয়, প্রায় তেরো-চৌদ্দ গুণ বেশি গত দুবছর ধরেই।

নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলছেন, বিশেষ করে অফিসের সময় ভিড়ে ঠাসা ট্রেনের কামরাগুলোই মহিলা পকেটমাররা টার্গেট করে থাকেনএবং অনেক সময়ই তাদের সঙ্গে থাকে একটি শিশু বা কোলে বাচ্চা, যাতে তাদের পকেটমার হিসেবে সন্দেহ করাটাই কঠিন হয়।

ফলে যদি কোনও যাত্রী ধরা যাক ট্রেনের ভেতর বুঝতেও পারলেন তার মানিব্যাগ কিংবা মোবাইল ফোনটি খোয়া গেছে, কোলে শিশু নিয়ে থাকা একজন মহিলার ওপর সন্দেহটা কম হবে, এটাই স্বাভাবিক।

নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা আরও বলছে, যদি কোন মহিলা পকেটমার ট্রেনে ধরাও পড়ে যান,তাকে সচরাচর গণপিটুনির হাত থেকে রেহাই দিয়ে সরাসরি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়াটাই রীতি।

কিন্তু পুরুষ পকেটমারদের অনেক সময়ই গণপিটুনির হাতে পড়তে হয়, ধরা পড়লে যাত্রীদের সবাই তাকে দুচার ঘা দিয়ে থাকেন। তাই পকেটমারির যে সব সংগঠিত চক্র দিল্লিতে সক্রিয়, তারাও মহিলাদের ব্যবহার করতেই বেশি পছন্দ করে। সূত্র: বিবিসি বাংলা

এমএ