প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ ও ভারতকে নিয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও তাদের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই ভয়ঙ্কর সব পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বলে মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সাবেক একজন বিশ্লেষক।
আইএসআই-জঙ্গি সখ্যের হুমকি মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করলে তাতে দুই পক্ষই লাভবান হবে বলেও মনে করেন সিআইএ’র সাবেক নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রুচ রিডেল।
সম্প্রতি ভারতে আল কায়েদার নতুন শাখা চালুর ঘোষণা দিয়ে সংগঠনটির নেতা আয়মান আল জাওয়াহিরির ভিডিওবার্তা সেনা-গোয়েন্দা চক্রের যৌথ পরিকল্পনাকে আরও একধাপ এগিয়ে দিয়েছে বলেও মনে করেন ব্রুচ।
সিআইএ থেকে অবসরের পর এই নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ওয়াশিংটনের গবেষণা সংস্থা ব্রুকিং ইনস্টিটিউশনের গোয়েন্দা প্রকল্পের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে যোগ দিয়েছেন।
সম্প্রতি দ্য ডেইলি বিস্ট-এ রিডেল লেখেন, “পাকিস্তানে নিজের গোপন আস্তানায় বসে জাওয়াহিরি তার ভিডিওটি রেকর্ড করেছে, তাতে সন্দেহ নেই। আইএসআই তার নিরাপত্তা দিচ্ছে বলে অনেক ভারতীয়ই বিশ্বাস করেন।”
২০০৮ সালে মুম্বাইয়ে বোমা হামলাকারী লস্কর-ই-তায়্যেবা ও এর নেতা হাফেজ সাঈদের সঙ্গে জাওয়াহিরির দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে বলেও মনে করেন রিডেল।
বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর আফগানিস্তানের হেরাতে ভারতীয় দূতাবাসে যে হামলা হয়, তার জন্য লস্কর-ই-তায়্যেবাকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
লস্কর আইএসআইয়ের খুবই ঘনিষ্ঠ। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে লস্করপন্থি জেনারেল এবং আইএসআইয়ের সায় ছাড়া তারা এতো বড় কাজটি করতে পারিনি বলে ধারণা তার।
“লস্কর-ই-তায়্যেবা নেতা হাফিজ সাঈদ পাকিস্তানে প্রকাশ্যেই চলাফেরা করেন। টেলিভিশনের উপস্থিত হয়ে নিয়মিত তাকে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করতে দেখা যায়।”
হেরাতে ভারতীয় দূতাবাসে হামলা হয়েছে এমন এক সময়ে, যখন বিজেপি নেতা মোদির আমন্ত্রণে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের ভারত সফরের আলোচনা চলছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদির শপথ অনুষ্ঠানে অন্যান্য প্রতিবেশি রাষ্ট্রের সরকার প্রধানদের সঙ্গে ‘বৈরী সম্পর্ক থাকা’ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন মোদি।
রিডেলের মতে, নওয়াজ শরীফকে ভারতের কাছে বিব্রত করা (চাপে ফেলা) হেরাতে ভারতীয় দূতাবাসে হামলার অন্যতম একটি কারণ হতে পারে। সাবেক সেনাপ্রধান পারভেজ মুশাররফকে বিচারের আওতায় আনা এবং পাকিস্তানী তালেবানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কারণে শরীফের ওপর বিরক্ত সেনাবাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্রের এই নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন, সম্প্রতি কাশ্মিরের সীমান্ত অঞ্চলে ভারত-পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মধ্যে বিরোধ আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, যদিও প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে দুই দেশের বিরোধ কমিয়ে আনা এবং অস্ত্রের প্রতিযোগিতা থেকে পিছিয়ে আসার চেষ্টা করছেন।
“পাক সেনাবাহিনী ও আইএসআই গোয়েন্দারা আবারও ভারত, লস্কর-ই-তায়্যেবা এবং কাশ্মির নিয়ে ভয়ঙ্কর খেলায় মেতে উঠেছে। এর মাধ্যমে বেসামরিক নেতৃত্বের কাছ থেকে ফায়দা হাসিল করতে চায় সেনাবাহিনী।”
মুম্বাই ও হেরাতের মতো হামলাগুলো প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্রকে ভারতের সঙ্গে গোয়েন্দা সহযোগিতা জোরদার করার পরামর্শ দেন রিডেল।
তার মতে, এর মাধ্যমে জঙ্গি তৎপরতা ব্যর্থ করা না গেলেও, কোনো সঙ্কট শুরু হলে, লস্করই তায়্যেবার সঙ্গে আইএসআই সংশ্লিষ্টতার তথ্য যত বেশি বিনিময় করা যাবে, যুক্তরাষ্ট্র নয়া দিল্লির কাছে তত বেশি গ্রহণ যোগ্যতা পাবে।
ঢাকা, ৭ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই





