ভারতের স্বাধীনতা দিবসে উনায় একটি সরকারি স্কুলে জাতীয় পতাকা ধরে আছেন দলিত নারী রাধিকা ভেমুল্লা। জানুয়ারিতে তার ছেলে হায়দ্রাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রোহিত ভেমুল্লা আত্মহত্যা করেন। গত মাসে চারজন দলিত তরুণকে গরু হত্যার মিথ্যা অভিযোগে ব্যাপক মারধর করে উগ্র হিন্দুরা। দেশজুড়ে বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল সেই ঘটনা। স্বাধীনতা দিবসেও হাজার হাজার দলিত এক বিক্ষোভে অংশ নিয়ে নির্যাতনের প্রতিবাদ জানান।
রাজধানী নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে সামাজিক ঐক্য সংহতির কথা বলেন। নিচু শ্রেণীর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকারের প্রতিশ্র“তির পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। একইদিনে উনায় হিন্দু সমাজের নিচু জাত বলে পরিচিত দলিতরা বিক্ষোভ থেকে সরকারের প্রতিশ্রুতি প্রত্যাখ্যান করেন।
মোদির রাজ্য গুজরাটের সমাবেশে দলিতরা স্লোগান দিয়ে বলেন, সরকারের এমন গালভরা কথা শুনে শুনে আমরা ক্লান্ত। এ সময় তারা হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন, ‘আমরা আর কখনো মরা গরু টানব না। গরুর চামড়াও ছাড়াব না।’ সমাবেশে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা কানহাইয়া কুমারও উপস্থিত ছিলেন। ফেব্রুয়ারিতে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে আটক হন কানহাইয়া।
ভারতে মরা গরু টানা ও চামড়া ছাড়ানোর দুরুহ কাজটি করেন দলিতরা। এজন্য তাদের খুব সামান্য পারিশ্রমিক দেয়া হয়। দেশটির ২০ কোটি দলিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে গুজরাটে বাস করে ২.৩ শতাংশ। কেবল গত বছরই দলিত নির্যাতনের এক হাজারেরও বেশি মামলা হয়েছে।
১৯৯০-২০১৫ সাল সময়ে গুজরাটে ৫৩৬ দলিত হত্যা এবং ৭৫০ দলিত নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।
কিছুদিন আগে গুজরাটের রাজধানী আহমেদাবাদ থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরে উনা জেলায় গোহত্যার অভিযোগে চার দলিত যুবককে হেনস্থা করার অভিযোগ ওঠে স্থানীয় গোরক্ষা কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে। ওই চার দলিতকে মারধরের পাশাপাশি তাদের নগ্ন করে গাড়ির পেছনে বেঁধে কয়েক কিলোমিটার নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর ওই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে পোস্ট করা হলে ক্ষোভে ফেটে পড়ে দলিত সম্প্রদায়ের মানুষরা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তরফে ওই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। এমনকি ভারতে পার্লামেন্টও এই বিষয় নিয়ে উত্তাল হয় ।
এসএ/টাইম





