হাঙ্গেরি সীমান্তে পুলিশের টিয়ার গ্যাস আর জলকামানে অতিষ্ট হয়ে পায়ে হেঁটে ক্রোয়েশিয়া সীমান্ত গিয়েছিলেন শরণার্থীরা। কিন্তু যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশগুলো থেকে পালিয়ে আসা এসব মানুষদেরকে আটকে দিতে সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে ক্রোয়েশিয়া সরকার।

ক্রোয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাঙ্কো ওসটোজিক জানিয়েছেন যে তাদের দেশের মধ্যে দিয়ে শরণার্থীদেরকে যেতে দেয়া হবে না।

বৃহস্পতিবার তিনি জানিয়েছেন যে শরণার্থীরা সার্বিয়া থেকে টোভারনিক শহরে প্রবেশ করেছেন। রাজধানী জাগরেবের কাছাকাছি তাদেরকে গ্রহণ করে নিরাপদ গমন নিশ্চিত করায় অনেকে ক্রোয়েশিয়ায় আশ্রয় প্রার্থণা করতে পারেন।

তিনি আরো জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নয় হাজারেরও বেশি শরণার্থী সার্বিয়া থেকে তাদের দেশে প্রবেশ করেছেন।

তিনি বলেছেন, "যদি আবার একই দিনে ৮ হাজার শরণার্থী প্রবেশ করে তাহলে ক্রোয়েশিয়া সার্বিয়ার সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দিবে। শরণার্থীরা এখন যেসব দেশে আছে সেখানে যে ধরনের সুবিধা পাচ্ছেন, তা দিতে ক্রোয়েশিয়া আগ্রহী নয়।"

এদিকে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জোরান মিলানোভিচ বলেছেন যে ক্রোয়েশিয়া সীমিত সম্পদের দেশ। তিনি বলেছেন, "আমরা তাদেরকে আশ্রয় দিব না ও দিতেও পারব না এবং কেউ আমাদেরকে তা করাতে বাধ্য করতে পারবে না।

বৃহস্পতিবার টোভারনিকে ক্রোয়েশিয়ার পুলিশ শত শত শরণার্থীদেরকে ফেরত যেতে বাধ্য করেছেন। এতে মানুষের দৌড়াদৌড়ি ও হুড়োহুড়িতে অনেকে পড়ে গেছেন ও পদদলিত হয়েছেন।

দু'হাজারেরও বেশি নারী, শিশু ও পুরুষ মারাত্মক গরমের মধ্যে স্থানীয় রেল স্টেশনে কয়েক ঘণ্টা আটকা পড়েছিলেন। শরণার্থী শিবিরে যাওয়ার জন্য তারা বাস ও ট্রেনে চড়তে অপেক্ষা করেছিলেন।

কিন্তু যখন বাস আসল, লোকজন সেখানে দৌড়ে ছুটে গেলেন। ক্রোয়েশিয়ার পুলিশ তাদেরকে সংযত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন।

পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর লোকজন পায়ে হেঁটে রওয়ানা দেন, পুলিশ তাদেরকে থামাতে পারেননি।

জেডআই