ভারতে ইভটিজারদের বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হল একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীর৷ গুরুতর জখম হয়েছেন আরও দুই ছাত্রী৷ বৃহস্পতিবার বিকেলের এই মর্মান্তিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেফতার করা হয় দুই অভিযুক্ত ইভটিজারকে৷

গ্রেপতারকৃতদের নাম দিব্যেন্দু দাস ও সুব্রত মাইতি৷ গাড়িতে থাকা তৃতীয় ব্যক্তির সন্ধান এখনও মেলেনি৷ ধৃতদের বিরুদ্ধে খুন ও খুনের চেষ্টার মামলা রুজু করেছে মহিষাদল থানার পুলিশ৷ তবে, পুলিশ ছাত্রীকে পিষে মারার বিষয়টিকে নিছক দুর্ঘটনা বলে উল্লেখ করে ধৃতদের আদালতে পাঠাচ্ছে৷

পুলিশের এই ভূমিকা নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন তুলেছেন মৃত ও আহত ছাত্রীদের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা৷ তাদের অভিযোগ, গোটা ঘটনাটিকে ধামাচাপা দিতে চাইছে পুলিশ৷ কারণ, একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে জানিয়েছেন, প্রথমে ইভটিজিং করে অভিযুক্তরা৷ ছাত্রীরা প্রতিবাদ করলে এগিয়ে যাওয়া গাড়ি ‘ব্যাক গিয়ার’-এ এসে দুই ছাত্রীকে পিষে দেয়৷ একজন ঘটনাস্থলে মারা যায়৷ অন্যজন হাসপাতালে ভর্তি৷ জেলা পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া জানিয়েছেন, ইভটিজিংয়ের কোনও প্রমাণ মেলেনি, বেপরোয়া গাড়ির আঘাতেই মৃত্যু৷ আটক করেছে নয়ানজুলিতে পড়ে যাওয়া গাড়িটিকে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে হলদিয়া-কোলাঘাটে ৪১ নম্বর জাতীয় সড়কের গাড়ুঘাটায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে৷ তমলুক থেকে হলদিয়াগামী একটি গাড়ির ধাক্কায় তাজপুর হাইস্কুলের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী মধুমিতা বাগের (১৬) মৃত্যু হয়৷ তার দুই সহপাঠী সুনীতা বাগ ও পিংকি নায়েক গুরুতর জখম হয়৷ এই তিন ছাত্রীরই বাড়ি নন্দকুমারের মাধবপুরে৷ স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ওই গাড়িতে তিন যুবক ছিল৷ ধাক্কা মেরে গাড়িটি পালাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নয়ানজুলিতে উল্টে গেলে একজনকে ধরে ফেলেন স্থানীয় বাসিন্দারাই৷ পরে পুলিশ আরও একজনকে গ্রেফতার করে৷ কিন্তু গাড়িতে তিনজন ছিল৷ একজন পালিয়ে গিয়েছে৷ যদিও তৃতীয় কেউ ছিল কি না তা নিয়ে মন্তব্য করতে চায়নি পুলিশ৷

জেড