ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধের তথ্য-প্রমাণ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) জমা দিয়েছে ফিলিস্তিন। গত বছর গাজা উপত্যকায় করা ইসরায়েলের ওই অপরাধের প্রমাণ গত বৃহস্পতিবার হস্তান্তর করা হয়। খবর আলজাজিরার।
নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে আইসিসির বৈঠক শেষে আদালতের প্রধান প্রসিকিউটর ফাতৌ বেনসৌদার কাছে নথি হস্তান্তর করেন ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াদ মালিকি।
নথিতে গাজা যুদ্ধ, অধিকৃত অঞ্চলে ইসরায়েলের বসতি স্থাপন এবং ফিলিস্তিনী কারাবন্দীদের প্রতি ইসরায়েলী কর্তৃপক্ষের আচরণের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
মালিকি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক কৌশলের বিশ্বাসযোগ্যতার পরীক্ষাক্ষেত্র ফিলিস্তিন… এটা এমন পরীক্ষা যেখানে বিশ্ব পরাজিত হতে চাইবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফিলিস্তিন প্রতিশোধ নয়, বিচার চায়।’
চলতি বছর আইসিসির সদস্য হওয়ার পর প্রথমবারের মতো বিচার চেয়ে নথিপত্র জমা দিলো ফিলিস্তিন। তবে এই বিচার কার্যক্রম কত সময় নেবে তা স্পষ্ট নয়।
ফিলিস্তিন কাগজপত্র জমা দেওয়ার ঘটনা ইসরায়েলকে অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলে দিল। তারা এখন আইসিসির তদন্তে সহযোগিতা করবে না সংস্থাটিকে এড়িয়ে চলবে— এ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ইসরায়েল অবশ্য আইসিসির সদস্য নয়।
দ্য হেগভিত্তিক আইসিসির নিজস্ব কোনো পুলিশ বা শক্তি প্রয়োগকারী বাহিনী নেই। ইসরায়েল তাদের তদন্তে অসহযোগিতা করলে বা দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরও ব্যবস্থা না নিলে সংস্থাটির কিছু করার থাকবে না।
ইতোমধ্যে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এ ধরনের ইঙ্গিতে দেওয়া হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘ফিলিস্তিনের এ উদ্যোগ আইসিসিকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। আমরা আশা করব আইসিসির প্রসিকিউটররা এই ফাঁদে পা দেবেন না।’
২০১৪ সালে জুলাই-আগস্টে অধিকৃত গাজা উপত্যকায় একতরফা হামলা চালায় ইসরায়েলী বাহিনী। ৫০ দিনব্যাপী ওই হামলায় ২ হাজার ২৫১ ফিলিস্তিনী নিহত হয় বলে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘ। এর মধ্যে ১ হাজার ৪৬২ জনই বেসামরিক নাগরিক।
অপরদিকে ৬৭ ইসরায়েলী সেনা ও ৬ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়।
সম্প্রতি এক তদন্ত প্রতিবেদনে ওই হামলার জন্য ইসরায়েল ও হামাসকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত করেছে জাতিসংঘ।
জেআই





