যে কোন মূল্যে পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিজ দেশের প্রতি ইঞ্চি ভূখন্ড রক্ষা করবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল রাহিল শরীফ।

আজ (শুক্রবার) পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আন্ত: গণসংযোগ বিভাগ-আইএসপিআর (Inter-Services Public Relations -ISPR) – এর এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।

পাকিস্তানের খারিয়ান প্রদেশের কাছে দেশটির জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী কেন্দ্রে (National Counter-Terrorism Centre- NCTC) দেয়া এক ভাষনে এ মন্তব্য করেন পাক সেনাপ্রধান।

যে কোন বহির্শক্তির হুমকি মোকাবেলার সামর্থ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর রয়েছে বলেও দাবি করেন জেনারেল রাহিল।   

পাক সেনাপ্রধান বলেন, বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পাকিস্তান সন্ত্রাসী হামলার লক্ষ্যবস্তু হলেও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দেশটির আমজনতার দৃঢ় অবস্থান এবং সামরিক বাহিনীর পেশাদারিত্বের মধ্য দিয়ে যে কোন সন্ত্রাসী কার্যকলাপ প্রতিরোধের সক্ষমতা রয়েছে পাকিস্তানের।   

সেনাপ্রধান রাহিল জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী কেন্দ্র-এনসিটিসি পরিদর্শনকালে কেন্দ্রের অবকাঠামোগত সংস্কার কাজেরও উদ্বোধন করেন। এই সংস্কারের ফলে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পাশাপাশি আরো অধিক সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও বিদেশী সেনারা এই কেন্দ্রে অবস্থান করে প্রশিক্ষণ নেয়ার সুযোগ পাবেন।

বিবৃতিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আন্ত: গণসংযোগ বিভাগ-আইএসপিআর আরো দাবি করে, এই নতুন সংস্কারের মধ্য দিয়ে এনসিটিসি সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী সর্বোচ্চ মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের একটিতে রুপান্তরিত হলো।

এ সময় পাক সেনাপ্রধানকে ব্রিফ করেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর স্ট্রাইকিং বাহিনীর (the Strike Corps) কমান্ডার লে. জেনারেল উমার ফারুক দুররানি।

দুররানি বলেন, এ পর্যন্ত এনসিটিসিতে ২ লাখ ৩১ হাজার সেনা সদস্য এবং ৩ হাজার ৪শ ৮৩ পুলিশ কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

তিনি আরো অবহিত করেন, এ পর্যন্ত ৫ টি দেশের সাথে পাকিস্তানের যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও পরিচালিত হয়েছে এই কেন্দ্রে। দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে-চীন, সৌদি আরব, বাহরাইন, শ্রীলংকা, মালদ্বীপ ও তুরস্ক।  

এদিকে, কাশ্মীর ইস্যুকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘের ৭১তম সাধারণ অধিবেশনে যখন পাকিস্তান ও ভারত মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে তখনই পাক সেনাপ্রধানের এমন শক্ত বিবৃতিকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অপরদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দেয়া বক্তব্যে ভারতের সাথে শান্তিস্থাপনে তার আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেছেন। তবে, কাশ্মীর ইস্যুর সমাধান ছাড়া এই শান্তি প্রক্রিয়া সম্ভব নয় বলেও সোজাসাপ্টা জানিয়ে দিয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী।

সাধারণ পরিষদে দেয়া ভাষণে পাক প্রধানমন্ত্রী জম্মু ও কাশ্মীরকে সামরিক বাহিনীমুক্ত করতে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ এবং কাশ্মীর ইস্যুতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইতোমধ্যেই গৃহিত রেজুলেশন (resolutions) বাস্তবায়নেরও দাবি করেন।    

উল্লেখ্য, পাকিস্তানকে ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র (terrorist state)’  হিসেবে আখ্যায়িত করে কোনঠাসা করতে নানামুখী কুটনৈতিক কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে ভারত। পাশাপাশি কাশ্মীরের উরিতে এক হামলায় ১৮ ভারতীয় সেনা নিহত ও ৩০ জনের অধিক আহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে ভারত পাকিস্তানে  সামরিক হামলা চালাতে পারে বলেও আশংকা করা হচ্ছে গত কয়েকদিন ধরে। (সূত্র: ডন, বিবিসি ও আলজাজিরা)

কেবি