বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির ঘটনায় জড়িত বলে সন্দেহভাজন ক্যাসিনো ও জাংকেট অপারেটরদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিলিপাইনের মুদ্রা পাচার প্রতিরোধ কর্তৃপক্ষ (এএমএলসি)।
মঙ্গলবার ফিলিপাইনে সিনেটর ব্লু রিবন কমিটির চতুর্থ দিনের শুনানিতে অংশ নিয়ে একথা জানান এএমএলসির নির্বাহী পরিচালক জুলিয়া বাকে-আবাদ।
ফিলিপাইনের সংবাদ মাধ্যম দ্যা র্যাপলারের এক প্রতিবেদনে একথা উল্লেখ করে বলা হয়, ব্লু রিবন কমিটির এই শুনানিতে অংশ নিয়ে এএমএলসি নির্বাহী পরিচালক জানিয়েছেন- আগামী সপ্তাহেই মামলাটি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শুনানিতে তিনি বলেন, 'আমরা ইতিমধ্যে মামলার প্রস্ততি নিয়ে এ বিষয়ে কাগজপত্র প্রস্তুত করেছি। আশা করছি আগামী সপ্তাহেই সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণ মামলাটি করতে পারব।'
এদিকে, দৈনিক ইনকোয়ারারের অনলাইন সংস্করণের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছ- ফিলিপাইনে সিনেট কমিটির চতুর্থ দিনের শুনানিতে অংশ নিয়েছেন এ কেলেঙ্কারির অন্যতম প্রধান সন্দেহভাজন ব্যবসায়ী কিম অং এবং রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোস-দেগুইতো।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির ঘটনায় সিনেটের ব্লু রিবন কমিটির শুনানিতে অংশ নিয়ে মায়া সান্তোস বলেছেন, আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং প্রতারক চক্রের 'দাবা খেলায়' আমি ঘুঁটির মতো ব্যবহার হয়েছি।
আর অর্থ চুরির এ ঘটনায় আরও ৯৭ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার ফিরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন কিম অং যিনি এর আগে ৪৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার ফেরত দিয়েছেন।
ব্যবসায়ী কিম অং জানান, ১৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে তিনি আরও ৯৭ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার সিনেট কমিটির কাছে জমা দেবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে হ্যাকারদের মাধ্যমে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির ঘটনা দেশে প্রথম জানাজানি হয় মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে। চুরি হওয়া ওই অর্থ উদ্ধারে বাংলাদেশ ব্যাংক জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ফিলিপাইনের দৈনিক দ্য ইনকোয়েরার পত্রিকায় গত ২৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ডলার চুরির খবর প্রকাশ করে।
ওই খবরে বলা হয়, দেশটির মাকাতি শহরে অবস্থিত রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের একটি শাখার মাধ্যমে ওই অর্থ ফিলিপাইনে আসে। চীনা হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে এ অর্থ হাতিয়ে নেয়। হ্যাকার দল ওই অর্থ প্রথমে ফিলিপাইনে পাচার করে।
ওএফ





