পাকিস্তনের সেনাবাহিনী আলোচনার মাধ্যমে দেশটির চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনের আহ্বান জানিয়েছে।
বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে বুধবার সন্ধ্যার মধ্যে পদত্যাগের মেয়াদ বেঁধে দেয়ার পর বিবদমান রাজনৈতিক পক্ষগুলোকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানাল সেনাবাহিনী।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিম বাজওয়া ধৈর্য অবলম্বন ও আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের এ আহ্বান জানান।
এক টুইটার বার্তায় তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশ ও জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে অর্থবহ সংলাপের মাধ্যমে চলমান অচলাবস্থা নিরসন করতে সকল পক্ষকে প্রজ্ঞা, ধৈর্য ও দুরদর্শিতার পরিচয় দিতে হবে।’
এদিকে, পাক সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইসলামাবাদের ‘রেড জোনে’ ঢুকে পড়েছে সব শ্রেণির মানুষ। এ দলে নারী-পুরুষ ও শিশুও রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনসহ বিদেশি দূতাবাসগুলো এ এলাকায় অবস্থিত। নওয়াজ শরীফের পদত্যাগের দাবিতে পিটিআই এবং পিএটি গত পাঁচ দিন ধরে অবস্থান ধর্মঘট চালিয়ে আসছে। নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য ইসলামাবাদে নিরাপত্তা বাহিনীর হাজার হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ চাপের মুখে পদত্যাগ করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন নওয়াজ। এ সময় তিনি বলেন, আলোচনার জন্য দরজা খোলা রাখা হবে। কিন্তু তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন না।
বৈঠকে রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইমরানের পিটিআই’র সাথে যৌথভাবে আন্দোলন করছেন ধর্মীয় তাহিরুল কাদরির পাকিস্তান আওয়ামি তেহরিক পার্টি (পিএটি)। দল দু’টি মঙ্গলবার বিকেল থেকে রাজধানী ইসলামাবাদের ‘রেড জোনে’ আলাদা সমাবেশ করছে। যদিও সেনাবাহিনী ও পুলিশের পক্ষ থেকে রেড জোনে প্রবেশ করতে ইমরানকে অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
ইতোমধ্যেই ইসলামাদের বিভিন্ন এলাকা থেকে পিটিআই ও পিএটি’র প্রায় ২ শতাধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ইমরান খান বলেছেন, নির্দিষ্ট আল্টিমেটামের মধ্যেই নওয়াজকে সরে যেতে হবে। তিনি সব পাকিস্তানি জনগণকে সমাবেশে যোগ দিয়ে সরকার পতনের এই আন্দোলনে ভূমিকা রাখতে আহ্বান করেছেন। পাশাপাশি পুলিশকে কোন অন্যায় সিদ্ধান্ত না নিতেও অনুরোধ করেছেন।
ইমরান আরো বলেন, পিটিআই’র নেতৃত্বে দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র আনতে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।
তাহির-উল কাদরি বলেছেন, আমাদের আন্দোলন হবে শান্তিপ্রিয়। তাই আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার অনুরোধ করছি। গ্রেপ্তারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তিও দাবি করেন তিনি।
এদিকে, পাকিস্তানের ফেডারেল মন্ত্রী সাদ রফিকী এক টুইট বার্তায় জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ দেশের কল্যাণে পিটিআই নেতা ইমরান খানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসতে আগ্রহী। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান রফিকী।
গত বছরের মে মাসে পাকিস্তনের সাধারণ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন পিটিআই নেতা ইমরান খান ও পিএটি নেতা তাহিরুল কাদরি। ওই নির্বাচনে ক্ষমতায় আসা প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের পদত্যাগ, সরকার পতন ও পুনর্নির্বাচনের দাবিতে অনেকদিন ধরেই আন্দোলন করছেন এই দুই নেতা।
এরই ধারাবাহিকতায় পিটিআই নেতা-কর্মীরা গত বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসে পাঞ্জাবের লাহোর থেকে ইসলামাবাদ অভিমুখে আজাদি মার্চ শুরু করেন। শুক্রবার তাদের গাড়িবহরে ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান মুসলিম লীগের (পিএমএল-এন) নেতা-কর্মীরা জুতা, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গুলি ছুঁড়েছেন বলে অভিযোগ পিটিআই’র।
এছাড়া তাহিরুল কাদরি তার দলের সমর্থকদের হত্যার দায়ে নওয়াজ শরিফ ও তার ভাই পাঞ্জাবের মূখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের পদত্যাগ ও গ্রেপ্তার দাবি করেছেন।
ঢাকা, ২০ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমএ





