জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত কেল্লি ক্রাফট প্রকাশ্যেই তার ইরানি প্রতিপক্ষের সঙ্গে এক বিরল সহানুভূতি প্রদর্শন করেছেন।
বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা পরিষদে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে জানা গেছে।
২০১৮ সালে ইরানের সঙ্গে ছয় বিশ্বশক্তির সই হওয়া পরমাণু চুক্তি থেকে একতরফাভাবে সরে আসার ঘোষণা দেয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির উত্তেজনা বেড়েই চলছিল।
চার বছর আগের ওই চুক্তি অনুসারে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বিবাদে ভরা এক বৈঠকের পর ক্রাফট হেঁটে একটু সামনে গিয়ে ইরানি রাষ্ট্রদূত মাজিদ তাখত রানভাচির সঙ্গে কথা বলেন এবং তার প্রয়াত কন্যার জন্য সহানুভূতি প্রকাশ করেন।
১৫ সদস্যের কাউন্সিলে বক্তব্য দেয়ার সময় নিজের দুই বছর বয়সী কন্যার কথা বলছিলেন রানভাচি। গত জুনে ওই শিশুটি মারা গেছে এবং এই মৃত্যুর জন্য তিনি মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে দায়ী করেন।
জাতিসংঘে মার্কিন মিশনের এক কর্মকর্তা বলেন, রাভানচিকে তার কন্যার মৃত্যু জন্য শোক জানিয়েছেন ক্রাফট।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে ওই চুক্তি থেকে সরিয়ে আনার ঘোষণা দেয়ার পর তেহরানের বিরুদ্ধে তার প্রশাসন ক্রমাগত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আসছে।
ইরানের অর্থনীতির প্রাণশক্তি অপরিশোধিত তেল বিক্রি আটকে দিতেই অধিকাংশ নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু দেশটির ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের প্রচারের অংশ হিসেবে এসব নিষেধাজ্ঞায় কয়েক ডজন ইরানি প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে।
এতে ইরান আরও বেশি আগ্রাসী হয়ে পড়েছে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন।
কাউন্সিলে রাভানচি বলেন, এটা খুবই লজ্জাজনক যে মার্কিন চাপে ইরানে কিছু প্রাণরক্ষাকারী ওষুধ আমদানিও বন্ধ হয়ে গেছে। যা কিছু রোগীদের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।
উদহারণ দিতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, ইবি রোগে আক্রান্তদের জন্য একটি বিশেষ ব্যান্ডেজ রফতানি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপে বন্ধ করে দিয়েছে একটি ইউরোপীয় কোম্পানি। ইবি হচ্ছে এক বিরল জিনগত অবস্থা তাতে মানুষের শরীরের ত্বকে সহজেই ফুস্কুড়ি আক্রান্ত হয়ে পড়ে।
‘এতে আভা নামের একটি ইরানি শিশু সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন।’
নিরাপত্তা পরিষদকে ক্রাফট বলেন, একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় জড়াতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এতে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা আরও উন্নত হবে। কিন্তু দেশটি যখন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ক্রমাগত বাড়াচ্ছে, তখন আমরা অলসের মতো বসে থাকতে পারি না।
এমআর





