ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বাংলাদেশে গরু পাচার পুরোপুরি বন্ধের জন্য পাহারা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের প্রতি। তবে পাচার বন্ধ হলে ভারতকেই আগে লোকসানের মুখে পড়তে হবে। এজন্য বছরে তাদের প্রায় ৩১ হাজার কোটি রুপি ক্ষতি হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে একথা বলা হয়েছে।

বুধবার পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পরিদর্শনের সময় রাজনাথ সিং বলেন, 'তোমরা এমনভাবে পাহারা বাড়াও যাতে গুরু পাচার একেবারেই বন্ধ হয়ে যায় এবং বাংলাদেশে গরুর মাংসের দাম ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বেড়ে যায়। এক সময় যাতে বাংলাদেশের মানুষ গরুর মাংস খাওয়াই ছেড়ে দেয়।'

বিএসএফের পাহারা জোরদার করার পর সম্প্রতি বাংলাদেশে গরুর মাংসের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভারতের হিসাবে, সেখান থেকে বছরে প্রায় ২৫ লাখ গরু পাচার হয় বাংলাদেশে। বিএসএফের ইন্ধনেই এই পাচার চলে বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও বিএসএফ সদস্যরা অভিযোগ অস্বীকার করেন।

ভারতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাচার বন্ধ হলে স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অন্তত এক কোটি ২৫ লাখ গরুর লালন-পালন করে যেতে হবে ভারতের গোশালাগুলোয়। ভারতে গরুর স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল ১৫ থেকে ২০ বছর। মোটামুটি ১০ বছর পরই গরুর বাচ্চা উৎপাদন ও দুধ দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। কৃষি কাজেও লাগানো যায় না।

পাচার বন্ধ হলে এ ধরনের প্রায় সোয়া কোটি গরুর লালনপালন চালিয়ে যেতে হবে। গরুর খাওয়া-দাওয়া, গোয়াল, রক্ষণাবেক্ষণকারীর বেতনের মত খরচ চালিয়ে যেতে হবে। একটি গরুর পেছনেই বছরে অন্তত ২৫ হাজার রুপি করে খরচ হবে। সেই হিসেবে ভারত সরকারের খরচ দাঁড়াবে বছরে প্রায় ৩১ হাজার ২৫০ কোটি রুপি। বাড়তি গরুর গোয়াল তৈরির জন্য যে জায়গা লাগবে ও অবকাঠামো নির্মাণে যে খরচ পড়বে সেই খরচ এর সঙ্গে যুক্ত হবে।

বিএসএফের এক কর্মকর্তা বলেন, 'সীমান্তের দুই পারেই অর্থনৈতিক চাপ পড়বে। বাংলাদেশে যেমন মাংসের জন্য চাপ আছে তেমনি ভারতেও এই পশুগুলোর লালন-পালন চালিয়ে যাওয়ার চাপ রয়েছে। আক্রমণের শিকার না হলে আমরা পাচারকারীদের ওপর গুলিও চালাতে পারবো না। বাস্তব কোনও সমাধান না বের করা পর্যন্ত পাচার পুরোপুরি বন্ধের সম্ভাবনা নেই।'

জেআই