নির্বাসনে থাকা মালদ্বীপের সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ নাশিদ (Mohamed Nasheed) দ্বীপরাষ্ট্রটিতে চলমান রাজনৈতিক সংকট মোকাবেলায় ভারতের সামরিক পদক্ষেপসহ বহির্বিশ্বের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।  

দেশটির জেলে আটক বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মুক্তিতে ভারতের হস্তক্ষেপ চাওয়ার পাশাপাশি নাশিদ ক্ষমতাসীন নেতৃবৃন্দের অর্থনৈতিক লেনদেনের ওপর বিধি-নিষেধ আরোপের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিও আহবান জানান।

সম্প্রতি মালদ্বীপের বর্তমান রাষ্ট্রপতি আব্দুল্লাহ ইয়েমেন (Abdulla Yameen) দেশটির আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে এবং বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ সত্ত্বেও বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তিদানে অস্বীকার করার ফলে এই রাজনৈতিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে, খবর বিবিসি, আলজাজিরা।

মঙ্গলবার সাবেক রাষ্ট্রপতি নাশিদ এক বিবৃতিতে বর্তমান রাষ্ট্রপতির পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে বলেন, তাকে অবশ্যই ক্ষমতা থেকে অপসারণ করতে হবে।

এদিকে, মালদ্বীপের সরকার দেশে জরুরী অবস্থা জারি করেছে এবং দেশটির সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে আটক করেছে। অবশ্য তাকে আটক করে কোথায় রাখা হয়েছে বা তার বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে সে ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি।

বিরোধী দল এই পদক্ষেপকে বিচার ব্যবস্থাকে সমূলে উচ্ছেদের ক্ষেত্রে সরকারের আরেক নগ্ন হস্তক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

এদিকে, মালদ্বীপ সরকারের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। আমেরিকার পররাষ্ট্র দপ্তর (US State Department) এই ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে।

তবে, এরই মধ্যে দেশটির বর্তমান রাষ্ট্রপতি আব্দুল্লাহ ইয়েমেন জাতির উদ্দেশ্যে টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে দাবি করেছেন যে বিচারপতিরা চক্রান্ত করছে যাতে দেশে আরেকটি সামরিক ক্যু হয়।

এমনই পটভূমিতে সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ নাশিদ তার বিবৃতিতে ভারতকে সামরিক বাহিনীসহ মালদ্বীপে একজন প্রতিনিধি পাঠানোর আহবান জানান যাতে করে আটক থাকা রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে মুক্ত করা যায়।

মালদ্বীপের বাসিন্দাদের স্বার্থেই ভারতের এমন উপস্থিতি কামনা করছেন দাবি করে নাশিদ আরো বলেন, রাজনৈতিক সংকট মোকাবেলায় এটা জরুরী।

অবশ্য দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের বিতর্কিত ভূমিকার পটভূমিতে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের পক্ষে এভাবে ভারতের সামরিক হস্তক্ষেপ চাওয়া কতটা নিরাপদ ও সার্বভৌমত্বের স্বার্থে স্বস্তিদায়ক সে ব্যাপারে অবশ্য নাশিদ তার বিবৃতিতে কিছু বলেননি।

বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইয়েমেনের জরুরী অবস্থা ঘোষণাকে অবৈধ আখ্যায়িত করে সাবেক রাষ্ট্রপতি নাশিদ বলেন, দেশকে এভাবে বিপদে ফেলে দেয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ইয়েমেনকে অবশ্যই উৎখাত করতে হবে।

উল্লেখ্য, মালদ্বীপে প্রথমবারের মতো গণতান্ত্রিক পন্থায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ২০০৮ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন মোহাম্মদ নাশিদ। কিন্তু দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগে ২০১২ সালে তাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা হয় এবং জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। পরবর্তীতে জেল থেকে বের করে তাকে নির্বাসনে পাঠানো হয়। বর্তমানে নাশিদ শ্রীলংকায় অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।   

কেবি