ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি সমঝোতা চুক্তির সময়সীমা শেষ হতে যাচ্ছে ৩১ মার্চ। এ নিয়ে সুইজার‍ল্যান্ডের লুজান শহর এখন ব্যস্তসমস্ত হয়ে উঠেছে। বিশ্বের ছয় পরাশক্তি ও ইরানের জন্য এই চুক্তিটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই সবার মনোযোগ ও আগ্রহ এখন লুজানের দিকে। খবর বিবিসির।

লুজানে পৌঁছেছেন ছয় শক্তি অর্থ্যাৎ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। অন্যদিকে আলোচনার অপর পক্ষ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফও রয়েছেন লুজানে।

৩১ মার্চের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তির পর এর ভিত্তিতে আগামী জুনের মধ্যে একটি স্থায়ী চুক্তি করার কথা রয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মাত্রা বেধে দেয়া হবে। এর বিনিময়ে ইরানের উপর থেকে পশ্চিমা বিশ্বের সব রকম অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেয়া হবে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি দেশে ফেরার পরিকল্পনা করেও আর যাননি। তার সাবেক সহকর্মী সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডির মৃত্যুতে তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে দেশে যেতে চেয়েছিলেন কেরি। কিন্তু পরে এই সিদ্ধান্ত বাদ দেন। ফ্রান্স ও জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও তাদের নির্ধারিত কাজাখস্তান সফর বাতিল করে এখন লুজানে অবস্থান করছেন।

সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, আলোচকরা আগের চেয়ে চুক্তির ব্যাপারে অনেক বেশি কাছাকাছি রয়েছেন। তবে, চুক্তি হবেই এরকম কোন নিশ্চয়তা কেউই দিতে পারছেন না। বেশ কিছু গুরুতর সিদ্ধান্ত এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। এরপরও আলোচকরা একটি চুক্তির ব্যাপারে আশা করছেন।

এদিকে, ইরানের সঙ্গে চুক্তির ব্যাপারে ইসরায়েল আবারো তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। নেতানিয়াহু জানান, তার দেশ চুক্তির ব্যাপারে যতটুকু আতংকিত, চুক্তিটি হওয়ার পর তার চেয়ে অনেক বেশি ভয়ের কারণ হবে। উল্লেখ্য, ইসরায়েলের ভয় হচ্ছে চুক্তিটি হলে ইরান গোপনে পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাবে এবং এর মাধ্যমে ইরান এক সময় পারমাণবিক বোমার অধিকারী হবে; যদিও ইরান বারবার বলে আসছে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। ইসরায়েল বলছে, চুক্তি হওয়া মানেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর সুযোগ করে দেয়া।

এমএ