সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের আলোচিত অঞ্চল ক্রিমিয়া। কৃষ্ণ সাগরের তীরবর্তী এই উপদ্বীপটি এখন রাশিয়ার দখলে। ক্রিমিয়ার অধিবাসীদের প্রায় ১৪ শতাংশ মুসলমান। তারা তাতার মুসলমান নামে পরিচিত।
তাতার মুসলমানরা অভিযোগ করেছেন, রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাদের মসজিদগুলোতে প্রকাশ্যে নজরদারি করছে। বৃহস্পতিবার এ খবর জানিয়েছে ওয়ার্ল্ডবুলেটিন।
ক্রিমিয়ার তাতার মুসলমানদের রয়েছে আলাদা পার্লামেন্ট, যা ক্রিমিয়ান তাতার মজলিশ নামে পরিচিত। মজলিশের প্রাক্তন সদস্য মুস্তাফা জেমিলেভ বৃহস্পতিবার এ অভিযোগ করেন।
ইউক্রেনের 'ফাইভ চ্যানেল'কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মুস্তাফা জেমিলেভ জানান, রাশিয়ার ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস (এফএসবি)-এর কর্মকর্তারা মসজিদে প্রকাশ্যে এসে নজরদারি করছে। মসজিদে এসে দেখা হচ্ছে কার দাড়ি কত লম্বা, কে কত ধার্মিক!
গণভোটের মাধ্যমে ক্রিমিয়ার রাশিয়াতে অন্তর্ভূক্তির তীব্র প্রতিবাদী নেতা হলেন মুস্তাফা জেমিলেভ। প্রসঙ্গত, গত ১৬ মার্চ ক্রিমিয়ার আঞ্চলিক সরকার এক গণভোটের মাধ্যমে ইউক্রেন ছেড়ে রাশিয়াতে যোগ দেয়। ক্রিমিয়ার বেশিরভাগ মানুষ জাতিগতভাবে রাশিয়ান হওয়ায় খুব সহজেই গণভোটে রাশিয়ার পক্ষে রায় হয়।
জেমিলেভ অভিযোগ করে বলেছেন, রাশিয়াতে অন্তর্ভূক্তির পর থেকে ক্রিমিয়ার মুসলমানদের বাড়ঘরকে চিহ্নিত করা হচ্ছে, চাকরি থেকে মুসলমানদের ছাঁটাই করা হচ্ছে, তাদের নিজস্ব তুর্কি ভাষায় কথা বলার জন্য আক্রমণের শিকার হচ্ছেন।
রাশিয়াতে অন্তর্ভূক্তির পর মজলিশ ভবনে হামলা চালায় রুশপন্থী জঙ্গিরা। তাদের আক্রমণে বেশ কয়েকজন মজলিশ সদস্য আহত হন। সেখানে ইউক্রেনের পতাকা নামিয়ে রাশিয়ার পতাকা উড়িয়ে দেয়া হয়।
ক্রিমিয়ার মুসলমানরা রাশিয়ার নাগরিকত্ব গ্রহণ করতে রাজি নন। তারা এখন নিজ দেশে 'বিদেশি' হয়ে গেছেন। জেমিলেভকে পাঁচ বছরের জন্য ক্রিমিয়া থেকে বহিষ্কার করেছে রাশিয়ার কর্তৃপক্ষ। সূত্র: ওয়ার্ল্ডবুলেটিন
[b]ঢাকা, ২৪ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি) //এমএ
 [/b]