দেশটা বেনিন, যখন কোন শিশু অসুস্থ হয় তখন তারা ডাক্তারের কাছে না গিয়ে যায় ভুদুর কাছে। হয়ত ভাবছেন ভুদু কী? পশ্চিম আফ্রিকার একটি প্রাচীন ধর্ম ‘ভুদু’ হলেও বেনিন জনগণের একটা বিশাল অংশই এই ধর্মে বিশ্বাসী। বেনিন ছাড়াও হাইতি, টোগো ও ঘানার প্রায় ৩০ লাখ মানুষ এই ধর্মে বিশ্বাস করেন। ভুদু হল এমন একটি ধর্ম যার পুরোটাই কুসংস্কার, যাদুবিদ্যা এবং আধ্যাত্মিকতার নামে অদ্ভুত সব কর্মকান্ডের ওপর ভর করে দাঁড়িয়ে আছে।
আফ্রিকান অঞ্চল বিশেষ করে আফ্রিকার পূর্বাঞ্চল প্রায় ১৯৯৬ সাল থেকে এই ধর্ম বা বিশ্বাসকে এমনভাবে লালন করে আসছে যাতে আধুনিকতার লেশমাত্র ঠায় নাই।বরং তারা এই ধর্মের সন্ন্যাসীদের দ্বারা আবর্তিত অঞ্চল বেনিনকে তাদের ধর্ম রাষ্ট্র বলে আখ্যায়িত করে।
তারা বিশ্বাস করে শিশুরা অসুস্থ হয় খারাপ আত্মার মাধ্যমে। তাই তারা ডাক্তারের কাছে না গিয়ে যায় ভুদুর প্রভুর কাছে। সন্ন্যাসীরা তাদেরকে চিকিৎসাবিজ্ঞ্রনের বাহিরে গিয়ে আধ্যাত্মিক ভাবে আরোগ্য করার চেষ্টা করে। সুস্থতার যদিও কোন প্রশ্ন উঠে না তারপরেও যদি কেউ সুস্থ হয় তাহলে তার অনেক মূল্য দিতে হয়।যদি কোন পরিবার মূল্য বহন করতে না পারে তাহলে স্থায়ী ভাবে তাদের সন্তানকে নিয়ে যাওয়া হয় সন্ন্যান্সীদের কাছে।
সংস্কৃতি: ভুদু ধর্মাবলম্বীরা অশুভ শক্তি থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য প্রতি বছর ভুদু উৎসবের আয়োজন করে। অশুভ দেবীকে খুশি করার উদ্দেশ্যে নানা রকম পশুপাখি বলি দেয়। বলি দেয়া পশুর রক্ত সারা গাঁয়ে মেখে ঘুড়ে বেড়ানো তাদের এই প্রথারই একটি উল্লেখযোগ্য অংশ।
পশুপাখি বলি দেয়ার জন্য যে ধারালো তলোয়ার ব্যবহার করা হয় তা তারা উত্তরাধিকারসূত্রে পূর্বপুরুষদে কাছ থেকে পেয়ে থাকে। হাতে ধারালো অস্ত্র নিয়ে নাচানাচি করা, পশুর রক্ত পান করা, মুখে আগুন ধরিয়ে দেয়া, পরিত্যাক্ত পুকুরের কাদায় পবিত্র হওয়ার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়া এই উৎসবের কিছু অবশ্য করণীয় কাজ। এক গভীর জঙ্গলের প্রতি বছর তারা এই উৎসব পালন করে আসছে যুগ যুগ ধরে। হাজার হাজার তরুণ তরুণী অশুভ আত্মার দেবীকে খুশি করার জন্য এই উৎসবে যোগ দেয়।
উৎসবে প্রায়ই ঘটে নানা রকম দুর্ঘটনা। কেউ প্রান হারান আবার কাওকে আজীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করে নিতে হয়। এত কিছু সত্বেও থেমে নেই বেনিনের অধিবাসীরা। ধর্মের নামে বছরের পর বছর ধরে পালন করে আসছে এমনই সব বিপজ্জনক উৎসব। বংশ পরম্পরায় চলে ধর্মের নামে এসব অনাচার।
জেড





