জনসংখ্যা ও আয়তনে দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে বড় দেশ ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে রোববার। ভোট গ্রহণ শেষে ঘোষিত প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফ নির্বাচনে এগিয়ে রয়েছেন।
বেসরকারি ফলাফলে রুসেফ পেয়েছেন ৪১ শতাংশ ভোট ও নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ডানপন্থি দলের নেতা এসিয়ো নেভেস পেয়েছেন ৩৫ শতাংশ ভোট। ৫০ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় জয় নিশ্চিত হচ্ছে না রুসেফের।২৬ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
ব্রাজিলে নির্বাচন আইন অনুযায়ী, কোনো প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোটে জয় নিশ্চিত করতে না পারলে নিকটতম দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে দ্বিতীয় দফায় আবারও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এবারের নির্বাচনে দেশটির ১৪ কোটি ২০ লাখ মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ব্রাজিলের ভোট ব্যবস্থা পুরোটাই ইলেকট্রনিক তাই পূর্ণাঙ্গ ফল ঘোষণা করতে বেগ পেতে হয়না দেশটির নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের।
এদিকে নির্বাচনের আরেক প্রার্থী পরিবেশবাদী মারিনা সিলভা তৃতীয় অবস্থান রয়েছেন। ঘোষিত আংশিক ফলাফলে তিনি ২২ শতাংশ ভোট পেয়েছেন।
নির্বাচনী প্রচারের শেষ সময়ে মধ্য বামপন্থি ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা রুসেফের জনপ্রিয়তা দেখে মনে হচ্ছিল, তিনি নিরঙ্কুশভাবে জয়ী হবেন। কিন্তু তা হচ্ছে না বলেই প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে।
নির্বাচনের আগে রুসেফের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী পরিবেশবাদী নেতা এদুয়ার্দো ক্যামপস মৃত্যুবরণ করায় এদুয়ার্দোর পরিবর্তে নির্বাচনে অংশ নেন মারিনা সিলভা।ভোটের ফলাফলে তার প্রভাব পড়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
দিলমা রুসেফ ক্ষমতায় আসার পর দেশটির বেকারত্ব অন্য যেকোনো পূর্বসূরীর শাসনামলের চেয়ে কমে আসে। তার সফল নেতৃত্বে ব্রাজিলের বেকারত্বের হার পাঁচে নেমে আসে।
কিন্তু বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজনে বিশাল বাজেট ব্যয় করায় তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নামে বিরোধী রাজনৈতিক সমর্থকরা। সেই সঙ্গে ক্ষমতার শেষ বছরে তার সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়।
এসব বিষয়কে কাজে লাগিয়ে ভালোই এগিয়েছেন এসিয়ো এদুয়ার্দো। গরিব ভোটারদের টানার চেষ্টা ছিল তার। ভোটের ফলাফল তার ছাপ দেখা যাচ্ছে।
তবে জয়পরাজয় নিশ্চিত করতে রুসেফ ও এদুয়ার্দোকে আবারও লড়তে হবে নির্বাচনে- ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত এটিই শেষ কথা। তথ্যসূত্র : বিবিসি অনলাইন।
ইআর





