তুরস্ক থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নিয়েছে নেদারল্যান্ড। প্রায় এক বছর ধরে তুরস্কে ডাচ রাষ্ট্রদূতের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি থাকার পর সোমবার নেদারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
দুই দেশের এ কূটনৈতিক টানাপড়েন শুরু হয় গত বছরের মার্চে। নেদাল্যান্ডের নির্বাচনের সময় তুরস্কের রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপের অভিযোগ ওঠে সেই সময়। নেদারল্যান্ডে তুর্কি মন্ত্রীদের গণভোটের প্রচারণা চালাতে না দেয়ার জের ধরে দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক তিক্ততা শুরু হয়েছিল।
সেই তিক্ততা এবার প্রকট আকার ধারণ করেছে। তুরস্কের দৈনিক ডেইলি সাবাহ বলছে, আনুষ্ঠানিকভাবে তুরস্ক থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নিয়েছে নেদারল্যান্ড। একই সঙ্গে নেদারল্যান্ড তুরস্কের নতুন কোনো রাষ্ট্রদূতকে সেদেশে ঢুকতে দেবে না।
এক বিবৃতিতে ডাচ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, কূটনৈতিক সঙ্কট সমাধানে তুরস্কের সঙ্গে আলোচনা করা হবে না।
নেদারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রী হালবে জিযসরা বলেছেন, দুই দেশের সাম্প্রতিক আলোচনা সত্ত্বেও আমরা সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারিনি।
গত মার্চে ডাচ নির্বাচনের আগে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলুকে বহনকারী একটি বিমান রটারডামে অবতরণের অনুমতি দেয়া থেকে বিরত থাকে নেদারল্যান্ড। একই সঙ্গে তুরস্কের পরিবার মন্ত্রী ফাতমা বেতুল কায়াকেও রটারডামে তুরস্কের কনস্যুলেট ভবনে প্রবেশে বাধা দেয়া হয়। পরে জার্মানিতে ফেরত পাঠানোর আগে কয়েক ঘণ্টা নিজের গাড়িতেই কাটান তিনি।
এ ঘটনার পর ওই সময় কড়া প্রতিবাদ জানায় আঙ্কারা। আঙ্কারায় নিযুক্ত ডাচ রাষ্ট্রদূত সেই সময় ছুটিতে ছিলেন। পরে তুরস্কে প্রবেশে ডাচ রাষ্ট্রদূতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই দুই দেশ কূটনৈতিক এ টানাপড়েন কেটে ওঠে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেছিল। সঙ্কট সমাধানে দুই দেশের কর্মকর্তারা চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত তা ব্যর্থ হলো।
এসএম





