গত কয়েক মাস ধরেই দলের ভেতরে ও বাইরে চাপের মধ্যে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেস।

সারদা গোষ্ঠীর আর্থিক কেলেঙ্কারিতে দলের শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার বা জেরা এবং জড়িত থাকার অভিযোগ।

অপরদিকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা চলছে। চলছে বিরোধীজোটের হরতাল অবরোধ। এ নিয়ে জাতিসংঘসহ দেশের সকলেই উদ্বেগ-উৎকন্ঠার মধ্যে রয়েছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলাদেশ সফর।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন মমতা।

বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাকা রওনা দেওয়ার আগে কলকাতার বিড়লা প্লানেটরিয়ামের সামনে বাংলাদেশের ভাষা শহীদদের স্মৃতিসৌধের আদলে ‘ভাষা শহীদ সৌধ’ স্থাপন করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বাংলাদেশকে তিস্তার পানি দেবেন কি না তা ঢাকায় নেমে বলতে চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার কলকাতায় ঢাকা সফর নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে তিস্তা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে একথা বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এই সফরে আরো থাকবেন ভারতের শিল্পপতি, চলচ্চিত্র, শিল্পী সাহিত্যিকরা।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশে এটাই মমতার প্রথম সফর। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং-এর ঢাকা সফরসঙ্গী হওযার কথা ছিল তার। একেবারে শেষ মুহুর্তে তা বাতিল করায় বাংলাদেশের গণমাধ্যম থেকে সাধারণ মানুষ- সবার সমালোচনার পাত্র হয়েছিলেন মমতা।

এমন একটি পরিস্থিতিতে মমতা বলেন, ‘ভাষা আন্দোলন বাংলাদেশের জাতীয় আন্দোলন। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ পেয়ে খুব খুশি। দুই বাংলার সর্ম্পক আরও মজবুত হবে। বাংলাদেশের সাথে বন্ধন আরও দৃঢ় হবে।’

এই সফর দুই দেশের সম্পর্কে কতটা প্রভাব ফেলবে?

রাজনৈতিক বিশ্লেষক জয়ন্ত ঘোষাল বলছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব যে দুর্বল হয়েছে, এটা অনস্বীকার্য।

কিন্তু একারণেই তার কট্টর অবস্থানও পরিবর্তন হয়েছে।

ভারতীয় জনতা পার্টি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঢাকা সফরকে কি চোখে দেখছে?

বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা তথাগত রায় বলেন, বিদেশের সাথে সম্পর্ক রাখার ব্যাপারে একটা রাজ্য সরকারের কোনও ভূমিকা থাকতে পারেনা।

তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এবিষয়ে কোনও সরকারি বক্তব্য থাকতে পারেনা।

শুধুমাত্র একটি সৌজন্যমুলক সফরে যেতে পারেন তিনি।

বিদেশ নীতির ক্ষেত্রে সাংবিধানিকভাবে ভারতের অঙ্গরাজ্যগুলোর কোনও ভূমিকা না থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর কারণেই অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের মতামত গুরুত্ব পেয়ে থাকে।

তবে নিজের নড়বড়ে অবস্থান কিছুটা শক্ত করবার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবর্তিত মনোভাব বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে অন্যমাত্রা যোগ করবে?

এই প্রশ্নে অবশ্য দ্বিধাবিভক্ত রাজনৈতিক নেতা ও বিশ্লেষকেরা।

এএইচ