ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের স্বঘোষিত ধর্মগুরু রামপালের জামিন বাতিল করে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো নির্দেশ দিয়েছে পাঞ্জাব-হরিয়ানা হাইকোর্ট। বুধবার রাতে তাকে সৎলোক আশ্রম থেকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।
আজ (বৃহস্পতিবার) তাকে হাইকোর্টে পেশ করা হলে আদালত ২৮ নভেম্বর অবধি রামপালকে হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয়।আগামী ২৮ নভেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে।
হাইকোর্ট ১৭ নভেম্বর রামপালের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ২১ নভেম্বরের মধ্যে তাকে যেভাবেই হোক গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেয়।
আজই পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট ২০০৬ সালের একটি হত্যা মামলায় রামপালের জামিন বাতিল করে দেয়। এই মামলায় তিনি ২০০৮ সাল থেকে জামিনে ছিলেন।
হাইকোর্ট আজ পুলিশের কাছে জানতে চায় রামপালের আশ্রমে অস্ত্রশস্ত্র এবং বাঙ্কার আছে কিনা? পুলিশি অপারেশনে কত লোক আহত হয়েছে? আগামী ৫ দিনের মধ্যে আশ্রম সম্পর্কিত রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দিয়েছে কোর্ট।
রামপালের গ্রেফতার করতে কম ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে এই অপারেশন শেষ করতে পারায় আজ হাইকোর্ট হরিয়ানা পুলিশের প্রসংশা করেছে।
বুধবার রাত ৯টা ২১ মিনিটে গ্রেফতার হয় রামপাল। এপর্যন্ত রামপালের বিরুদ্ধে ৯টি এফ আই আর দায়ের করেছে পুলিশ।
রামপালের গ্রেফতারি অবশ্য সহজে সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার সকাল থেকে তাকে ধরতে অভিযান শুরু হলেও বুধবার রাতে তাঁর সমাপ্তি ঘটে।
বুধবার সকালেই আশ্রমের ভেতর থেকে রহস্যজনকভাবে ৪ জনের মৃতদেহ এবং অসুস্থ আরো দুজনকে পুলিশের হাতে তুলে দেয় আশ্রমিকরা। পরে ওই দুজনও মারা যায়। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট, পাথর, অ্যাসিডের পাউচ, বোমা, গুলি ছোড়া হয় আশ্রম থেকে।
মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খাট্টা অবশ্য কোনো ঝুঁকি না নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে কথা বলেন। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে ৫০০ জনের আধাসামরিক বাহিনী পাঠানো হয় সেখানে। অবশেষে রাত ৯টা ২১ মিনিটে গ্রেফতার হয় স্বঘোষিত ধর্মগুরু রামপাল।
ইআর





