বুধবার চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া জানায়, স্থানীয় সময় সকাল ১১টার দিকে বেইজিংয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ঝু রংজি।

১৯৯৮ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত চীনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ঝু রংজি। এ সময়ে রাষ্ট্রীয় শিল্পে বড় ধরনের সংস্কার, বাজার উন্মুক্তকরণ এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) চীনের সদস্যপদ নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেন তিনি।

১৯৯০-এর দশকে চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও দক্ষ ও লাভজনক করার উদ্যোগ নেন ঝু। এসব সংস্কারের ফলে লাখো মানুষ চাকরি হারালেও দীর্ঘমেয়াদে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়।

চীনের ডব্লিউটিও সদস্যপদ নিশ্চিত করার দীর্ঘ আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ঝু। ১৯৯৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন আদায়ে ওয়াশিংটন সফরও করেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত ২০০১ সালের ডিসেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে ডব্লিউটিওতে যোগ দেয় চীন। এর মাধ্যমে দেশটির রপ্তানি ও বৈশ্বিক বাণিজ্য আরও দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ার পথ তৈরি হয়।

ঝু রংজি কর্মকর্তাদের ব্যর্থতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের জন্য ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। কঠোর কর্মশৈলীর কারণে তাঁকে ‘বস’ এবং ‘পাগলা ঝু’ নামেও ডাকা হতো।

চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যম পিপলস ডেইলি জানিয়েছে, ১৯৯৮ সালে ঝু বলেছিলেন, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের জন্য ৯৯টি এবং নিজের জন্য একটি—এভাবে মোট ১০০টি কফিন প্রস্তুত রেখেছেন।

১৯২৮ সালের ২৩ অক্টোবর হুনান প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন ঝু রংজি। অর্থনৈতিক পরিকল্পনাকারী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও ১৯৫৭ সালে হাঙ্গেরি ও যুগোস্লাভিয়ার অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রশংসা করায় তাঁকে ‘ডানপন্থী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

ফলে প্রায় দুই দশকের বেশি সময় তাঁর রাজনৈতিক ও পেশাগত অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়। সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময় তাঁকে প্রত্যন্ত এলাকায় শারীরিক শ্রমে নিয়োজিত করা হয়েছিল।

১৯৭৯ সালে পুনর্বাসনের পর দ্রুত রাজনৈতিক উত্থান ঘটে তাঁর। ১৯৮৮ সালে সাংহাইয়ের মেয়র এবং পরে উপ-প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

ঝু রংজির সংস্কারের সময় ২০০০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে চীনের বার্ষিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশের ওপরে ছিল। ২০০৭ সালে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ১৪ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছায়।

রাষ্ট্রীয় শিল্প সংস্কারের পাশাপাশি ব্যক্তিগত আবাসন খাত সম্প্রসারণ, ব্যাংকিং ও করব্যবস্থার সংস্কারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে অবসরের পর জনসম্মুখে তাঁর উপস্থিতি অনেকটাই কমে যায়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে চীনের অর্থনৈতিক রূপান্তরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থপতি হিসেবে স্মরণ করা হবে ঝু রংজিকে।

সূত্র: এপি, এনবিসি নিউজ

এস