বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগের শহীদ হাদি চত্বরে ইনকিলাব মঞ্চের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনব্যাপী কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

পাটোয়ারী বলেন, এসব সমস্যার সমাধান শুধু সংসদের ভেতরে হবে বলে তিনি মনে করেন না। ভবিষ্যতে রাজপথেই জনগণের দাবির সমাধান করতে হবে।

ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীদের দৃঢ়তার প্রশংসা করে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষে তাদের দমন করা সম্ভব নয়। একইভাবে বাইরের কোনো শক্তিও সংগঠনটির কর্মীদের দমাতে পারবে না।

শহীদ ওসমান হাদির আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে পাটোয়ারী বলেন, হাদি যখন লড়াই করেছিলেন, তখন অনেকে তার সঙ্গে ছিলেন, আবার অনেকে ছিলেন না। তবে সময়ের সঙ্গে দেশের মানুষ শহীদ ওসমান হাদির গুরুত্ব আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করবে।

ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীদের সঙ্গে নিজের যোগাযোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণভবনের সামনে অবস্থানের সময় সংগঠনটির কর্মীদের সঙ্গে তার মেশার সুযোগ হয়েছিল। তার অভিজ্ঞতায় তারা অত্যন্ত সাহসী এবং একটি ‘গুছানো টিম’ হিসেবে কাজ করছেন।

আদর্শ, ন্যায়, নীতি ও ইনসাফের প্রশ্নে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা শহীদ ওসমান হাদির মর্যাদার সঙ্গে কোনো আপস করেননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পাটোয়ারী বলেন, শহীদ ওসমান হাদি বলে গিয়েছিলেন, তিনি না থাকলেও বাংলাদেশের মানুষের মাঝে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীদের রেখে গেছেন।

নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারীর দাবি, ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা সংখ্যায় কম নন। তাদের সঙ্গে দেশের লাখ লাখ মানুষ রয়েছেন এবং ভবিষ্যতে কোটি কোটি মানুষ তাদের সঙ্গে যুক্ত হবেন।

শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিরোধী দল ও সরকারদলীয় সংসদ সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় গেলে সাধারণ মানুষ তাদের কাছে প্রথমেই জানতে চান—শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার কবে হবে।

সংসদে বিরোধী দল কিংবা সরকারি দলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তুলনামূলক কম আলোচনা হলেও সমস্যাটির সমাধান শুধু সংসদের ভেতরে হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। জনগণের কণ্ঠস্বরই রাজপথে এ দাবির সমাধানের পথ তৈরি করবে বলে জানান পাটোয়ারী।

তার ভাষ্য, বাংলাদেশের সামনে রাজপথ ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। জনগণের এই কণ্ঠস্বর ভবিষ্যতে ইনকিলাব মঞ্চের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী হবে এবং দেশের রাজনৈতিক পরিসরে সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ইনকিলাব মঞ্চের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার শাহবাগের শহীদ হাদি চত্বরে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

বাদ ফজর শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে মুনাজাত পরিচালনা করেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের। মুনাজাতে শহীদ ওসমান হাদিসহ জুলাই অভ্যুত্থানের সব শহীদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করা হয়।

সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হয় বিপ্লবী র‌্যালি ‘রাহে ইনকিলাব’। এতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

দিনের পরবর্তী আয়োজনে ছিল লাঞ্চ ব্রেক ও ‘আজাদীর মেলাকাত’। দুপুর ২টায় শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশেষ পর্ব রাখা হয়। বিকেল ৩টা থেকে ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলে শুভাকাঙ্ক্ষীদের অভিজ্ঞতা বিনিময়।

এরপর কবি, সাহিত্যিক ও শিল্পীদের অভিমত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি ‘আঘাত-শ্রাবণ জুলাই’ শীর্ষক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যায় মঞ্চস্থ হওয়ার কথা ‘লাল জুলাই’ শীর্ষক মঞ্চনাটক। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শেষ পর্বে বিশেষ আয়োজন ‘ইশক-এ ইনকিলাব’ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে ইনকিলাব মঞ্চের গত দুই বছরের পথচলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হচ্ছে।

এস