যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মহান একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করেছে লন্ডনের বাংলাদেশীরা । একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহর রাত ১২টা ১ মিনিটে লন্ডনের আলতাফ আলী পার্কস্থ শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্যদিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন বৃটেনের বাংলাদেশীরা। একুশের প্রথম প্রহরেই লন্ডনে আলতাফ আলী পার্কের শহীদ মিনারে মানুষের ঢল নামে।

নতুন প্রজন্মের ব্রিটিশ বাংলাদেশিরাও আসেন শ্রদ্ধা জানাতে। প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করে মাঝরাতেই প্রবাসী বাঙালিরা বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটে আসেন ৫২'র ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও ব্রিটেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার, বেথনাল গ্রীন এন্ড বো আসনের বাঙালি এমপি রুশনারা আলী এবং টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সাবেক মেয়র (স্থানীয় কাউন্সিল) লুতফুর রহমান, এরপর রুশনারা আলীর নেতৃত্বে শ্রদ্ধা নিবেদন টাওয়ার হ্যামলেটস লেবার পার্টি ও বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

এরপর একে একে লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব, টাওয়ার হ্যামলেটস লেবার পার্টি, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ, যুক্তরাজ্য বিএনপি, যুক্তরাজ্য জাতীয় পার্টি, প্রজন্ম ৭১, যুক্তরাজ্য উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, সোনালী ব্যাংক ইউকে, যুক্তরাজ্যস্ত ছাত্রলীগ, যুবলীগ, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ প্রায় অর্ধ-শতাধিক সংগঠন শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানায়।

"আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি" গানটির মধ্য দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রবাসীরা। শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর, মাতৃভূমির প্রতি প্রবাসী জনগণের মমত্ববোধ ও দেশপ্রম কতটা প্রবল তার প্রমাণ মধ্যরাতের এই সমাবেশ। ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের ফলেই বাংলা পৃথিবীর অন্যতম একটি সমৃদ্ধ ভাষার মর্যাদা পেয়েছে বলে জানান ব্রিটিশ এমপি রুশনারা আলী।

২১শে ফেব্রুয়ারি সকালে হাইকমিশন ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। এরপর ১১টায় হাইকমিশনের সম্মেলনকক্ষে মহান শহিদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য উপলক্ষে এক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।

হাইকমিশনার তার বক্তব্যে ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নে দলমত নির্বিশেষে ভেদাভেদ ভুলে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। পরে মহান শহিদ দিবস এবং অন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ওপর নির্মিত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।

আলোচনা অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্য প্রবাসী গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বাংলা প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এবং হাইকমিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবার একুশে ফেব্র“য়ারিতে আলতাব আলী পার্ক ও এর আশপাশের এলাকায় বিপুল সংখক পুলিশ এবং এম্ব্যুলেন্সের উপস্থিতি দেখা গেলেও, এবার তা ছিল লক্ষ্যণীয়ভাবে কম। একুশে ফেব্র“য়ারিকে সামনে রেখে লন্ডনের শহীদ মিনার কমিটি আগে থেকেই দলীয় কোনো শ্লোগান না দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দলগুলোর প্রতি আহবান জানায়।

তাদের সেই আহবানে সাড়া দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো দলীয় কোনো শ্লোগান না দেয়ায় পরিস্থিতি ছিল শান্ত এবং আগত সকলে শান্তিপূর্ণভাবে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সক্ষম হয়েছেন। এদিকে, যারা হট্টগোলের ভয়ে এবার একুশে ফেব্র“য়ারিতে শহীদ মিনারে যাওয়া থেকে বিরত থেকেছেন, শান্তিপূর্ণ উপায়ে একুশ পালনের খবর শুনে তারা আফসোস করেছেন।

জেএইচ