তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা ইসরাইলি হামলায় এ পর্যন্ত ১,২৬০'র বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৬ হাজার ৮শ’ ফিলিস্তিনি।
বুধবার গাজায় জাতিসংঘ পরিচালিত আবু হোসেইন স্কুলে ইসরাইলি ট্যাংকের গোলার আঘাতে কমপক্ষে ১৬ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে বেশ কয়েক জন। গাজার জরুরি বিভাগের মুখপাত্র আশরাফ আল-কুদরা এসব তথ্য জানিয়েছেন।
স্কুলটি মূলত আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে আসছে জাতিসংঘ। এখানে হাজার হাজার বেসামরিক ফিলিস্তিনি অবস্থান করছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার একজন কর্মকর্তা জানান, স্কুলের গোসলখানা এবং ২টি শ্রেণীকক্ষে ইসরাইলি গোলা আঘাত হেনেছে।
আল-জাজিরা'র সাংবাদিক ইমতিয়াজ তায়েব গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতাল থেকে জানান, হাসপাতালটিতে ৯০ জনেরও বেশি আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য আনা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার একদিনেই হামলায় মারা গেছেন ১শ’১০ জন ফিলিস্তিনি।
তবে শত প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ইসরাইলি তাণ্ডবের জবাব দেওয়ার বিষয়ে অটল রয়েছে ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস।
মঙ্গলবার এক অডিও বার্তায় সংগঠনটির সসস্ত্র শাখা আলকসম ব্রিগেডের কমান্ডার মোহাম্মদ দেইফ বলেন, অবরোধ তুলে নেওয়া না হলে এবং সীমান্তগুলো না খোলা পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি হবে না।
হামাসের গোপন সুড়ঙ্গ এবং রকেট নিক্ষেপের অজুহাত দেখিয়ে গত ৮ জুলাই থেকে গাজায় প্রথমে বিমান হামলা ও পরে স্থল অভিযান চালিয়ে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞে নামে যায়নবাদী ইসরাইলিরা।
এ বিষয়ে মোহাম্মদ দেইফ বলেন, তোমাদের বিমান বাহিনী এবং কামানের গোলা যে কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি, সে কাজ স্থলবাহিনী সম্পন্ন করতে পারবে না। তিনি বলেন, "আল্লাহর ইচ্ছায় তোমরা তোমাদের সৈন্যদের কসাইখানায় পাঠাচ্ছ"।
হামাস কমান্ডার আরও বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না ফিলিস্তিনি জনগণ শান্তিতে বসবাস করতে পারবে, ততক্ষণ পর্যন্ত 'ইহুদীবাদী ইসরাইল নিরাপত্তা' কী জিনিস সেটা জানতে পারবে না।
অডিও বার্তা প্রচার করার কিছু সময় পর হামাসের আল-আকসা টিভি চ্যানেলে আলকসম ব্রিগেডের একটি ভিডিও ফুটেজ প্রচার করা হয়। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, হামাসের একদল যোদ্ধা সুড়ঙ্গ ব্যবহার করে ইসরাইলের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রবেশ করছে। সূত্র: আল-জাজিরা
ঢাকা, ৩০ জুলাই, টাইমনিউজবিডি.কম, টিআই





