ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের সময় বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তা পানি বন্টন চুক্তি হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। রোববার ভারতের পক্ষ থেকে এটা নিশ্চিত করা হয়েছে।
সুষমা স্বরাজ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, "আসন্ন সফরে বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তা চুক্তি হচ্ছে না। কারণ রাজ্য সরকারের (পশ্চিমবঙ্গ) সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।"
তবে তিনি জানিয়েছেন যে তিস্তার বিষয় রাজ্য সরকারের সঙ্গে তাদের আলোচনা চলছে।
আগামী ৬-৭ জুন বাংলাদেশ সফরে আসছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক দিন আগে ৫ জুন বাংলাদেশে আসবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। পরের দিন সীমান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করে দেশে ফিরবেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘরোয়া কথাবার্তায় সুষমা জানান, এই সফরে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঢাকা যাবেন না। মমতা গত ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকায় গিয়ে তিস্তা নিয়ে তাঁর ওপর ভরসা রাখতে বলেছিলেন, সে কথাও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন।
ভারতের পররাষ্ট্রসচিব এস জয়শঙ্কর বলেন, এটা মনে রাখতে হবে এই সফরের মূল ফোকাস সীমান্ত চুক্তি, তিস্তা নয়। প্রধানমন্ত্রী তা সত্ত্বেও তিস্তা প্রসঙ্গে কোনো আশার কথা শোনাবেন কি না জানতে চাওয়া হলে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, আর কটা দিন অপেক্ষা করুন।
সংবাদ সম্মেলনে তিস্তা প্রসঙ্গ ছাড়াও দুই দেশের মধ্যে অভিন্ন ৫৪টি নদীর যৌথ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বাংলাদেশের আগ্রহ ও ভারতের অভিমত জানতে চাওয়া হয়। জবাবে সুষমা স্বরাজ বলেন, তিস্তা নিয়ে আলোচনা এখনো সেই জায়গায় পৌঁছায়নি যাতে চুক্তি হতে পারে।
তিনি বলেন, এটা ঠিক যে বাংলাদেশ ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানি বন্টন ও যৌথ ব্যবস্থাপনার কথা বলে আসছে। তিস্তার সঙ্গে এ নিয়েও কথা হবে। ইতিমধ্যে ভারতের জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয় এই অভিন্ন নদী নিয়ে এক দফা কথা বলেছে। ভবিষ্যতেও হবে।
নরেন্দ্র মোদির সফরে কোনো কোন ক্ষেত্রে চুক্তি হতে পারে সেই প্রশ্নের উত্তরে সুষমা বলেন, আর মাত্র একটা সপ্তাহ বাকি। অপেক্ষা করুন। দেখুন কোন কোনো ক্ষেত্রে চুক্তি হয়।
বাংলাদেশে থাকা আলফা নেতা অনুপ চেটিয়াকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই সফরে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে এ নিয়ে কথা হবে।
তিনি বলেন, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হলে অনুপ চেটিয়াকে পেতে অনেক সময় লাগবে। সে জন্য চেটিয়াকে সরাসরি ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হবে।
জেডআই, কেবি





