আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ জাপানের ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে সেদেশের অর্থনীতির তিনগুণ। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম এই অর্থনীতির বার্ষিক মূল্যায়নে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বলছে, মুদ্রাস্ফীতি ও আর্থিক বাজারে অস্থিতিলতার ঝুকিতে রয়েছে জাপান।
আইএমএফ অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, জাপানের পাবলিক ঋণ আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে জিডিপি'র ২৫০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।কাঠামোগত সংস্কারের নিশ্চল অবস্থা থেকে দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ঝুকির সম্মুখীন বলেও জানিয়েছেন তারা।
এ অবস্থায় জাপান সরকারকে খরচ কমানো ও অতিরিক্ত বাজেট সীমিত করার আহবান জানিয়েছে বিশ্বের প্রভাবশালী এই অর্থনৈতিক সংস্থা। প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবের পুনর্গঠন পরিকল্পনার দিকে সন্দেহের তীর ছুড়ে দিয়ে আইএমএফ বলছে, অ্যাবের পরিকল্পনা জাপানের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।
আইএমএফ আরো বলছে, পানির ব্যাপারে অ্যাবের অনড় নীতি জাপানের শান্তিবাদী পলিসিকে বিতর্কিত করেছে। যার কারণে সেদেশে অ্যাবের জনপ্রিয়তায় ধস নামে। বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন, কাঠামোগত সংস্কারের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী অ্যাবের যোগ্যতায় যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে।
অ্যাবে ২০১৩ সালের গ্রীষ্মে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের একটি উচ্চাভিলাষী কৌশল ঘোষণা করেন; যা দ্রুততার নামানুসারে ‘অ্যাবেনোমিকস’ হিসেবে পরিচিতি পায়।‘অ্যাবেনোমিকস’ অনুযায়ী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে শত শত কোটি ডলার ব্যয় করা হয়েছে।
এর ফলে অর্থনীতিতে দুটি প্রতিক্রিয়া হয়েছে।প্রথমত, নিজস্ব মুদ্রা ইয়েনের দাম কমানো হয়েছে।এতে রপ্তানি পণ্যের দামও সস্তা হয়ে যায়।
দ্বিতীয়ত, বিনিয়োগকারীরা ব্যাপক হারে বন্ড মার্কেট ছেড়ে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে।এতে শেয়ারের দাম বেড়ে যায়।এতে অল্পসংখ্যক ধনী লোকই লাভবান হয়েছেন।কারণ জাপানের ৮০ শতাংশেরও বেশি মানুষ শেয়ারবাজারে জড়িত হন না।
এদিকে শিনজো অ্যাবের আগের সরকার বিপুল অঙ্কের ঋণের দায় কমাতে ২০১২ সালে বিক্রয় কর বৃদ্ধির আইন পাস করে।সে অনুযায়ী ২০ বছর পর ২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে প্রথমবারের মতো ৫ থেকে ৮ শতাংশ কর বাড়ানো হয়।
আইএমএফ অর্থনীতিবিদরা এটা স্বীকার করেছেন যে, জাপানের ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিতে কিছু প্রাণশক্তি যোগান দিয়ে শিনজোর এই 'অ্যাবেনোমিকস' সংস্কার সাফল্য পেয়েছে।তবে তাকে দীর্ঘ মেয়াদি বড় ধরণের ঝুকির মুখোমুখি হতে হবে।যা তার দেশের জনসংখ্যার জন্য সাফল্য নাও হতে পারে।
আন্তর্জাতিক এই অর্থনৈতিক সংস্থা সতর্ক করে দিয়ে বলছে, জাপানের বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত 'ইয়েনের মূল্যহ্রাস নীতি' শেষ পর্যন্ত দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদার ফলে মূল্যবৃদ্ধি এবং পরবর্তী মুদ্রাস্ফীতি তীব্র করতে পারে।
অর্থনীতিবিদ ফিচের মতে, এ অর্থনৈতিক ঝুকি ও ঋণের বোঝা কমাতে অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য জাপানকে নিজ দেশের জনগণের উপর নির্ভরতা বাড়াতে হবে।
এ অবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ পদ্ধতিতে সংস্কার আনা এবং দেশটির অত্যন্ত সুরক্ষিত কৃষি ও সেবা খাতগুলোকে চালু রাখার জন্য জাপানের প্রতি আহবান জানিয়েছে আইএমএফ।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের মার্চে ফুকুশিমা পরমাণু দুর্ঘটনার পর থেকেই গতি হারাতে শুরু করে জাপানের অর্থনীতি।এ সময়ে দেশটির পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি আমদানি বেড়ে যায়।
অন্যদিকে মুদ্রা ইয়েনের দাম পড়ে যাওয়ায় আমদানি খরচও বেড়েছে।সব মিলিয়ে বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতিতে পড়ে দেশটি, যা এখনো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি।
এআর/ এসএইচ





