আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মস্কোতে অনুষ্ঠিতব্য আলোচনার দশ দিনও বাকি নেই। এরই মাঝে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় দেশটির শান্তিকে আরো অনিশ্চিত করে তুলেছে।

মস্কো আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের যোগ না দেয়ার সিদ্ধান্তকে আফগানিস্তানে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ বানচালের ষড়যন্ত্র বলে মনে করছে রাশিয়া। মস্কো গোপনে তালিবানদের অস্ত্র সরবরাহ করছে বলে যুক্তরাষ্ট্র যে দাবি করেছে তাতেও ক্ষুদ্ধ তারা।

রাশিয়া আগামী ১৪ এপ্রিল মস্কোতে আফগান শান্তি সম্মেলন আয়োজনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ ১২টি দেশের প্রতিনিধিরা এই সম্মেলনে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এই সম্মেলনে অংশ নিতে অস্বীকার করেছে বলে জানা গেছে। যদিও তার দুই মিত্র আফগানিস্তান ও ভারত তাতে অংশ নেবে বলে নিশ্চিত করেছে।

অন্যদিকে, তালিবানদের মস্কো অস্ত্র সরবরাহ করছে বলে ইউরোপে ন্যাটোর সুপ্রিম এলাইড কমান্ডার কার্টিস স্কাপারোত্তি দাবি করায় রাশিয়া এর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ৩০ মার্চ ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ন্যাটো-রাশিয়া কাউন্সিলের বৈঠকে মস্কো বিষয়টি উত্থাপন করে।

বৈঠকের পর ন্যাটোতে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার গ্রাসকো ব্রাসেলসে সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা নাকি আফগানিস্তানে তালিবানদের অস্ত্র সরবরাহ করছি। জেনারেল কার্টিস স্কাপারোত্তি এটি বলেছেন। তার এই কথায় আমরা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ।”

২৩ মার্চ রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জে. স্কাপারোত্তি সিনেট আর্মর্ড সার্ভিস কমিটি’র শুনানিতে বলেছেন, “আমি রাশিয়ার প্রভাব বৃদ্ধি পেতে দেখেছি। এই প্রভাব তালিবানদের সঙ্গে সহযোগিতা এবং সম্ভবত রসদ সরবরাহের কারণে তৈরি হয়েছে।

পাজওয়াখ আফগান নিউজের এক খবরে বলা হয়, ২৯ মার্চ মার্কিন কংগ্রেসের এক শুনানিতে আরেক মার্কিন জেনারেল, সেন্টকম কমান্ডার জে. জোসেল ভোটেল বলেন যে তালিবানরা রাশিয়ার কাছ থেকে অস্ত্র ও অন্যান্য বস্তুসহ কোন ধরনের সহায়তা পেয়ে থাকবে।

তবে, রাশিয়া এই দাবিকে ‘অবাস্তব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। বরং, মস্কো অভিযোগ করে বলেছে যে ওয়াশিংটন আফগানিস্তানে তাকে ন্যাটোর সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য করছে।

রাশিয়াভিত্তিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম স্পুটনিক এক প্রতিবেদনে ৩১ মার্চ বলা হয় যে ন্যাটোর সঙ্গে সংঘাতপূর্ণ সম্পর্ক গ্রহণের পথে মস্কোকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে।

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, আমরা [রাশিয়া] যেন সামরিক অচলাবস্থার ভিত্তিতে এক ধরনের সংঘাতমূলক সম্পর্কের পথে এগিয়ে যাই সে জন্য আমাদেরকে চাপ দেয়া হচ্ছে।”

ব্রাসেলসে রাষ্ট্রদূত পর্যায়ে রাশিয়া-ন্যাটো কাউন্সিল বৈঠকের ফলাফলের ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, বৈশ্বিক সমস্যা নিরসনে ন্যাটো আবারো বাস্তবতার আলোকে কাজ করার বদলে তার আদর্শিক মতাদর্শকে সামনে নিয়ে এসেছে।”

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, “পরিশেষে এই কথা বলছি যে [ন্যাটো] জোটের মনোভাবে মৌলিক পরিবর্তন ছাড়া ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতির উন্নতি ঘটবে না।”(southasianmonitor)

এমবি