মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশটির সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক স্থগিত করেছে নিউজিল্যান্ড।
আজ (০৯ ফেব্রুয়ারি) মঙ্গলবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানিয়েছেন। খবর রয়টার্স’র।
নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন বলেন, সেই সঙ্গে শিগগির মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নেতাদের নিউজিল্যান্ডে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে। এছাড়া মিয়ানমারে চলমান নিউজিল্যান্ডের সহায়তা কর্মসূচিগুলোর কোনোটিই সে দেশের সেনাবাহিনীকে সমর্থন করবে না।
এদিকে, মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-বিক্ষোভের অংশ হিসেবে পেশাজীবী ও শ্রমিকরা গতকাল দেশজুড়ে ধর্মঘট পালন করছে।
রাজধানী নেপিডোতে পুলিশ সোমবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করে, এবং রাষ্ট্রীয় টিভিতে সতর্ক করে দেয়া হয় যে বিক্ষোভকারীরা “জননিরাপত্তা ও আইনের শাসনের” প্রতি হুমকি সৃষ্টি করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সামরিক অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে মিয়ানমারে শহরগুলোর রাস্তায় তিন দিন ধরে বিক্ষোভ হচ্ছে।
গতাকাল (০৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানী নেপিডো, ইয়াঙ্গন এবং মান্দালয় সহ নানা শহরে বহু লোক রাস্তায় নেমে আসে। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ছিলেন সরকারি চাকুরে, শিক্ষক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী ও ব্যাংক কর্মকর্তারা। ইন্টারনেটে কর্মচারিদের বিক্ষোভের প্রতীক হিসেবে কাজ না করার আহ্বান জানানো হয়।
অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভ ঠেকাতে সেনা কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছিল কিন্তু তা সত্বেও রোববার (০৭ ফেব্রুয়ারি) প্রায় লাখখানেক লোক ইয়াঙ্গনের রাস্তায় নেমে আসে।
“আমরা সামরিক শাসন চাই না” , “আমাদের ভোটকে সম্মান করুন” “গণতন্ত্র ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত আমরা দাবি জানাতে থাকবো” - এসবই ছিল বিক্ষোভকারীদের দিক থেকে মিয়ানমারে অভ্যুত্থানকারী সামরিক নেতাদের প্রতি বার্তা। তাদের হাতে ছিল গৃহবন্দী নেত্রী অং সান সু চির ছবি। অনেকের পরনে ছিল তার দল এনএলডির প্রতীকী লাল রঙের ব্যাজ, কারো হাতে ছিল লাল বেলুন। অনেকে তিন আঙুলে স্যালুট দেখিয়ে একনায়কতন্ত্রী শাসনের প্রতিবাদ করে। রয়টার্স, বিবিসি
এমবি





