যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোর প্রতি ঐক্যের ডাক দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বৃহস্পতিবার দেয়া এক ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান। ইরান পরমাণু চুক্তি নিয়ে হুমকি-পাল্টা হুমকির মধ্যে এ আহ্বান জানান তিনি।
এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন তিনি। তিনি বলেন, তেহরান কখনও বলপ্রয়োগের মুখে বশ্যতা স্বীকার করবে না। পৃথক এক ভাষণে ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ভাগ্য নির্ধারণ করার মতো অবস্থায় এখন আর নেই যুক্তরাষ্ট্র।
টিভি ভাষণে খামেনি বলেন, ‘ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য উদ্ধত বিশ্বশক্তিগুলোর বলপ্রয়োগের চেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করেছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। বিশ্বের সব মুসলিম দেশকে যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের অন্যান্য শত্রুর বিরুদ্ধে একজোট হওয়া উচিত।’
খামেনি তার ভাষণে ট্রাম্পের কথারও সমালোচনা করেন। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এক সপ্তাহও টিকবে না বলে মঙ্গলবার এক মন্তব্য করেন ট্রাম্প। খামেনি বলেন, ‘এ ধরনের মন্তব্য মুসলিমদের জন্য অবমাননাকর... আমাদের অঞ্চলে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে যুদ্ধ চলছে, এটি দুঃখজনক। কিছু কিছু অনগ্রসর মুসলিম দেশের সরকার অন্যান্য দেশের সঙ্গে লড়াইয়ে লিপ্ত।’
মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তারের প্রশ্নে ইরান এবং সৌদি আরব পারস্পরিক দ্বন্দ্বে লিপ্ত। ইরাক থেকে সিরিয়া এবং লেবানন থেকে ইয়েমেন পর্যন্ত আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের জন্য তারা একে অপরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশের ভাগ্য নির্ধারণ করার অবস্থায় নেই হোয়াইট হাউস। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে হস্তক্ষেপ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে এ কথা বলেন তিনি।
ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাবরিজ শহরে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো যেসব সমস্যা মোকাবেলা করছে তা বিভ্রান্তিকর দৃষ্টিভঙ্গি ও বক্তব্যের কারণে তৈরি হয়েছে। কিছু কিছু দেশ মনে করে একটি নিপীড়িনকারী ও দখলদার সরকার অন্য দেশগুলোর ওপর প্রভাব বিস্তার করে থাকবে।
রুহানি বলেন, ‘তারা মনে করে হোয়াইট হাউস অবশ্যই মধ্যপ্রাচ্যের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। তাই তারা মনে করে, আরব বিশ্বের সব সম্পদ লুটে নিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। সূত্র: রয়টার্সের।
এসএম





