প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনই বড় ধরনের বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়তে হয়েছে ভারতের কংগ্রেস দলকে।

সোমবার দলটির ১৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন পার্টির মুখপত্রে বেনামি একটি আর্টিক্যালে কংগ্রেসের সভাপতি সোনিয়া গান্ধী এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করা হয়েছে।

কংগ্রেসের মুখপত্র কংগ্রেস দর্শনে প্রকাশ হওয়া ওই আর্টিক্যালে কাশ্মীর বিষয় নিয়ে নেহেরুকে ব্যাপক সমালোচনা এবং বর্তমান সভাপতি সোনিয়ার বাবা ইটালির ফ্যাসিস্ট সেনা ছিলেন বলে দাবি করা হয়।

এতে বলা হয়, ‘সোনিয়া গান্ধীর বাবা স্তেফানো ম্যাইনো ছিলেন ইটালির প্রাক্তন ফ্যাসিস্ট সেনা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি রাশিয়ার সেনাদের হাতে নিহত হন।’

কংগ্রেসে কীভাবে সোনিয়া সভাপতি নির্বাচিত হন, তার ছোটবেলার নানা কাহিনি, বিমানবালা হওয়ার আকাক্সক্ষা ইত্যাদি নানা বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা ওই লেখায়।

বলা হয়, ‘সোনিয়া গান্ধী ১৯৯৭ সালে কংগ্রেসের প্রাথমিক সদস্যপদ পান। এরপরই ৬২ দিনের মাথায় তিনি পার্টির সভাপতি নির্বাচিত হন। পরে সরকার গঠনের ক্ষেত্রেও তিনি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন।’

পার্টির মুখপত্রে এমন একটি বিতর্কিত আর্টিক্যাল লেখার কথা স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন মুম্বাই কংগ্রেসের প্রধান সঞ্জয় নিরুপম। পাটির মুখপত্র মুম্বাই কংগ্রেস দর্শনের সম্পাদক সুধির যোশিকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।

মুম্বাইয়ের একটি সাময়িকীতে সোমবারই কংগ্রেসের ১৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন আরেকটি আর্টিক্যাল প্রকাশ করা হয়। কাকতালীয়ভাবে ওই লেখাতেও কাশ্মীর, চীন ও তিব্বত নিয়ে নেহেরুর সমালোচনা করা হয়।

এতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নেহেরু বল্লভ ভাই প্যাটেলের পরামর্শ মেনেই সিদ্ধান্ত নিতেন, যদিও এই দুই নেতার মধ্যে সম্পর্ক ছিল তিক্তমধুর।

‘প্যাটেল যখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পান, তখনই দুই নেতার মধ্যে বিরোধ সামনে চলে আসে। দুই নেতাই দল থেকে পদত্যাগের হুমকি দেন।’

তথ্যসূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইন।

এমকে