অবশেষে গ্রেফতার করা হলো ভারতের হরিয়ানার স্বঘোষিত ধর্মগুরু রামপালকে। বৃহস্পতিবার তাকে হিসারের আদালতে এবং শুক্রবার পাঞ্জাব-হরিয়ানার হাইকোর্টে তোলা হবে। বৃহস্পতিবার ভোরেই রামপালকে চণ্ডীগড়ের নিকটবর্তী পাঞ্চকুলা টাউনে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তার মেডিকেল পরীক্ষা হয়।
স্বঘোষিত এই ধর্মগুরুর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২১ (সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রচারণা), ১২১-এ (দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র), ১২২ (ভারত সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধের উদ্দেশ্যে অস্ত্র সংগ্রহ) ধারায় মামলা করা হয়েছে।
এ ছাড়া ৬৩ বছরের এই ধর্মগুরুর বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, দাঙ্গা ও বেআইনিভাবে আটক করে রাখার অভিযোগও আনা হয়েছে।
গ্রেফতার হওয়ার পর রামপাল দাবি করেন তার উচ্চরক্তচাপ জনিত সমস্যা আছে। প্রাথমিকভাবে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও ডাক্তাররা জানান শারীরিকভাবে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ।
বুধবার রাতে বারোয়ালায় সতলোক আশ্রম থেকে তাকে গ্রেফতার করে হরিয়ানা পুলিশ। বুধবারই আশ্রমে ঢুকে পরে পুলিশ। বের করে আনা হয় ভক্তদের। দুপুরে গ্রেফতার করা হয় রামপালের ভাই পুরুষোত্তম দাসকে।
আশ্রম থেকে গ্রেফতারের পর অ্যাম্বুল্যান্সে চাপিয়ে তাকে আশ্রমের বাইরে নিয়ে যায় পুলিশ। এর আগে টানা দুদিন চেষ্টার পরেও রামপালকে ধরতে পারে নি পুলিশ। ভক্তদের ঢাল করে পুলিশকে বাধা দিতে থাকেন স্বঘোষিত এই ধর্মগুরু। বুধবার সকাল থেকে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে প্রশাসন। পুলিশের সঙ্গে নামে সিআরপিএফও। সকালেই প্রায় হাজার দশেক ভক্তকে বের করে আনা হয় সতলোক আশ্রম থেকে। বুধবারও পুলিশকে আশ্রমে ঢুকতে বাধা দেয় ভক্তরা। পুলিশকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয় অ্যাসিড বোমা। তবে শেষ পর্যন্ত আশ্রমে ঢুকে পড়ে পুলিশ। আশ্রম থেকে উদ্ধার হয় ছয়টি মৃত দেহ। এদের মধ্যে এক শিশু ও চার জন মহিলা। পালাতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যান রামপালের ভাই পুরুষোত্তম দাস।
গত চার বছরে তেতাল্লিশ বার কোর্টের সমন উপেক্ষা করেছিলেন স্বঘোষিত এই ধর্মগুরু। বৃহস্পতিবার হিসারের আদালতে তোলা হবে তাকে। শুক্রবার রামপালকে পেশ করা হবে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে। সূত্র: জি নিউজ
এমএ





