আধুনিক সামরিক ইতিহাসে মা বুফাং একটি বিশিষ্ট নাম। ২০ শতকের ৩০-এর দশকে সুসজ্জিত জাপানি বাহিনীকে পরাজিত করে তিনি চীনের গৌরব বৃদ্ধি করেন।

চীন দেশের মূল ভূখন্ডে প্রজাতন্ত্রের যুগে (১৯১২-১৯৪৯) একজন বিশিষ্ট মুসলিম নেতা ও সমরনায়ক ছিলেন তিনি। তিনি ছিলেন কিংহাই প্রদেশ শাসক।একই সাথে প্রদেশটির সামরিক ও বেসামরিক প্রধান।

জেনারেল মা বুফাং ছিলেন সেই সময়কার চীনের প্রধান নেতা চিয়াং কাইশেকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তার সমরজীবনের সময়কাল ১৯২৪-১৯৪৯। তিনি তিব্বতি, কাজাখ, জাপানি ও কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সফলতার পরিচয় দেন। চীনের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তিনি অকান্ত পরিশ্রম করেন। তিনি দ্বিতীয় চীন-জাপান যুদ্ধে বীরত্বের স্বাক্ষর রাখেন।

১৯৩৭ ও ১৯৩৮ সালে জাপানিরা তাকে জাপানের পক্ষে কাজ করার প্রস্তাব দেন। তিনি এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। হেনান প্রদেশে তার সৈন্যরা জাপানি সেনার বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লিপ্ত হয়, জাপানিরা পরাজিত হয়। জাপানি সেনার বেশির ভাগকে হত্যা করা হয়, কিছু জাপানিকে বিজয়ের স্মারক হিসেবে বন্দী করে কিংহাই প্রদেশে নেয়া হয়।

১৯৪৯ সালে চীনে সমাজতন্ত্র কায়েম হলে মা বুফাং প্রায় ২০০ আত্মীয় ও অধীন লোক নিয়ে সৌদি আরবে চলে যান। এর এক বছর পর তিনি কায়রো চলে যান। অপর দিকে তার ছেলে মা জিয়ুয়ান ১০ জেনারেলের সাথে তাইওয়ানে চলে আসেন। মা বুফাং ঘোষণা করেন, চীনা মুসলমানেরা কখনো কমিউনিস্টদের কাছে আত্মসমর্পণ করবে না এবং তারা গেরিলা যুদ্ধ চালিয়ে যাবে।

মা বুফাংয়ের জন্ম ১৯০৩ সালে এবং মৃত্যু ১৯৭৫ সালে। কিংহাই প্রদেশের জিনিংয়ের মা বুফাং ম্যানশন ছিল মা বুফাং ও তার পরিবারের বাসস্থান। এ বাড়ির নির্মাণকাজ শেষ হয় ১৯৪৩ সালে। মা বুফাং পরিবার ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত এখানে অবস্থান করে।

বাড়িটির আয়তন প্রায় ৩০ হাজার বর্গমিটার, যাতে রয়েছে ছয় হাজার বর্গমিটার জায়গাজুড়ে ২৯০টি কক্ষবিশিষ্ট দালান। বর্তমানে বাড়িটি একটি পর্যটক-আকর্ষক স্থল। চীনের অনেক মানুষের কাছে জেনারেল মা বুফাং এখনো স্মরণীয় ও বরণীয়। তথ্যসূত্র : ওয়েবসাইট

ইআর