শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাসুয়া জেলার আপার ত্রিশুলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি টানেল থেকে চীনা নাগরিককে উদ্ধার করে নেপালি সেনাবাহিনী। বন্যার পর থেকে তিনি ওই টানেলের ভেতরে আটকা ছিলেন।
নেপালি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজরাম বাসনেত জানান, দক্ষিণ কোরিয়ার দুর্যোগ বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় সেনাবাহিনীর একটি দল উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। পরে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য নুওয়াকোটের ত্রিশুলিতে সেনাবাহিনীর একটি ব্যারাকে নেওয়া হয়।
একই দিনে নুওয়াকোট জেলার বেত্রাবতী এলাকায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া একটি চারতলা বাড়ির ওপরের অংশ থেকে ৬৪ বছর বয়সী চান্দিকা শ্রেষ্ঠকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
সহকারী পুলিশ সুপার সুমন কুমার বিকের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর ১৯ নম্বর ব্যাটালিয়নের নয় সদস্যের একটি দল তাকে উদ্ধার করে। বন্যার পানিতে বাড়িটি ধসে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার পর তিনি সেখানে আটকা পড়েছিলেন।
এদিকে, ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে উদ্ধার অভিযান চালিয়েও নতুন করে কোনো জীবিত ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া যায়নি। সেখানে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধারকারী দল টানেলের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত ব্যাপক তল্লাশি চালায়। কোথাও কোথাও ১৫ থেকে ২০ মিনিট হামাগুড়ি দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে ধ্বংসস্তূপের প্রতিটি অংশ পরীক্ষা করা হয়।
তবে টানেলের অধিকাংশ জায়গাই কাদা, মাটি ও পলিমাটির নিচে চাপা পড়ে আছে। এর সঙ্গে রয়েছে বড় বড় পাথর। ফলে সেখানে আর কেউ জীবিত থাকার সম্ভাবনা নেই বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত ২৬ আগস্ট পাহাড়ি এলাকা থেকে নেমে আসা পানি ও ধ্বংসস্তূপে নেপালে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। রাসুয়া ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং এখনো ৫ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
নিখোঁজদের একটি বড় অংশ পর্যটক বলে জানা গেছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট
এস