শনিবার সকালে এমপি হোস্টেলে নিজ দপ্তরে বরিশাল ডিভিশনাল জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিডিজেএ) নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বিরোধী দলের কর্মসূচি প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, সরকারি দল থেকে রাজপথে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে কোনো সংঘাতময় কর্মসূচি দেওয়া হবে না। জনগণের বিবেকের কাছেই বিষয়টি তুলে ধরা হবে। জনগণ বোকা নয়, তারা সবকিছু বোঝে এবং সময়মতো মূল্যায়ন করবে।

তিনি বলেন, ‘ছয় মাস সময় পাওয়ার আগেই যদি রাজপথে নেমে যায়, তবে মানুষই তা মূল্যায়ন করবে।’

চিফ হুইপ জানান, সংসদের আগামী অধিবেশনেই দেশের বর্তমান সংকট ও জ্বালানি সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এ বিষয়ে সব দলের পক্ষ থেকে আসা নোটিশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।

বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘আমরা একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি ও ধ্বংসপ্রাপ্ত গণতন্ত্রের ওপর দাঁড়িয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছি। গণতন্ত্রের প্রতিটি স্তম্ভ ধ্বংস করা হয়েছিল। দেশের বিপুল সম্পদ নিঃশেষ করে আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে ঝুঁকির মুখে ফেলা হয়েছিল।’

বিগত সরকারের বিভিন্ন চুক্তির সমালোচনা করে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের দেওয়া প্রতিবেদনে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের মাত্র সাত মাসের মাথায় দেশ থেকে ৩০ লাখ কোটি টাকা লুটের তথ্য উঠে এসেছিল। পরবর্তী সময়েও দেশ থেকে বহু কোটি টাকা পাচারের তথ্য বেরিয়ে আসছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা নিজে সাধারণ জীবনযাপনের নাটক করলেও বাস্তবে দেশের চরম ক্ষতি করে গেছেন। একটি নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে ৯৮ শতাংশ গ্যাস চুক্তি করে জ্বালানি খাতকে চরম সংকটে ফেলে গেছেন।’

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে সরকারের নেওয়া নতুন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রতি মানুষকে আগ্রহী করতে ১০ থেকে ৫০ টাকা রেটিং সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। পাকিস্তান সোলার সিস্টেমে সাফল্য পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশেও এ উদ্যোগ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দ্রুত জ্বালানি সংকটের সমাধান সম্ভব।

এনএইচ