ইন্টারনেটে ছবি পোস্ট করে জার্মান মুসলমানদেরকে দেশটিতে ব্রাসেলসের মত হামলা চালানোর ডাক দিয়েছে ইসলামিক স্টেট (আইএস)।
এসআইটিই (সাইট) ইনটেলিজেন্স গ্রুপ একথা জানিয়েছে। হামলার লক্ষ্যস্থল হিসেবে জার্মান চ্যান্সেলর এঞ্জেলো মারকেলের কার্যালয় এবং কোলন-বন বিমানবন্দরের কথা উল্লেখ করেছে আইএস।
২২ মার্চ বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে একটি বিমানবন্দর ও একটি মেট্রো স্টেশনে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৩২ জন নিহত এবং দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়। ওই ঘটনার পর পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়।
সাইট জানায়, ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ফুরাত মিডিয়ার লোগো দেওয়া পাঁচটি ছবি বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার জার্মানির প্রায় সবগুলো গণমাধ্যমেই ছবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ পায়।
ছবিগুলোর সঙ্গে আল্লাহর শত্রুদের বিরুদ্ধে সহিংস কর্মকাণ্ড ঘটানোর জন্য মুসলিমদেরকে আহ্বানও জানায় আইএস।
একটি ছবিতে দেখা যায়, যুদ্ধ সাজে সজ্জিত এক জঙ্গি একটি মাঠে দাঁড়িয়ে এক দৃষ্টিতে কোলন-বন বিমানবন্দরের দিকে তাকিয়ে আছে। নিচে ক্যাপশন লেখা, ‘বেলজিয়ামে আপনাদের ভাইয়েরা কি করতে সক্ষম হয়েছে, আপনিও সেটা করতে সক্ষম।’
অন্য একটি ছবিতে দেখা যায়, বার্লিনে চ্যান্সেলরের কার্যালয়ে আগুন জ্বলছে। সামনে ইসলামিক স্টেটের একজন যোদ্ধা এবং একটি ট্যাঙ্ক দাঁড়িয়ে। শিরোনাম লেখা ‘জার্মানি যুদ্ধক্ষেত্র।’
জার্মানির বিকেএ ফেডারেল পুলিশ জার্মান পাসপোর্টধারী ওইসব সন্দেহভাজন ব্যক্তি যারা সিরিয়া ও ইরাক থেকে দেশে ফেরত এসেছে তাদের উপর নজর রাখে।
সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা ইন্টারনেটে আইএস-র ছবি পোস্ট করার বিষয়টি জানে। কিন্তু এজন্য বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো প্রয়োজন এখনই তারা দেখছে না।
বিকেএ’র মুখপাত্র বলেন, “আমরা বিষয়গুলো নিয়ে সতর্ক অবস্থানে আছি এবং আমাদের বিশেষজ্ঞরা সেগুলো পরীক্ষা করে দেখছে।”
"এটা পরিষ্কার যে, জার্মানি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু এবং হামলা যেকোনও সময়ই হতে পারে। কিন্তু এই ছবি ও হুমকি আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো পরিবর্তন আনবে না।"
ফেডারেল পুলিশ প্রধান হোলগার মুঞ্চ বলেন, “ব্রাসেলসে ২২ মার্চের হামলা থেকে এটা পরিষ্কার যে, ইসলামিক স্টেট অধীর আগ্রহে ইউরোপের সুপরিচিত স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানোর অপেক্ষায় আছে। কারণ সিরিয়া ও ইরাকে যুদ্ধক্ষেত্রে তারা এখন বেকায়দায় পড়েছে।”
এমআইএস।





