ইরাকের উত্তরে সুন্নী বিদ্রোহী আইএসআইএল-কে ঠেকাতে মার্কিন বিমান বাহিনী হামলা শুরু করেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন বলছে, কুর্দিস্তানের নিকটবর্তী ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় শহর ইরবিলের কাছে আইএসআইএল-এর ভারী অস্ত্রসম্ভার লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

এদিকে, কুর্দি মিলিশিয়া পেশমার্গার যোদ্ধারা আইসিসের হাত থেকে ইরবিল শহর রক্ষার জন্য লড়াই করছে।

শুক্রবার ইরাকে মার্কিন সেনা অভিযানের পথ খুলে দেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা৷ এবারের লক্ষ্য দেশের উত্তরে গণহত্যার আশঙ্কা দূর করা৷ এই অভিযানের লক্ষ্য সংখ্যালঘু ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের জন্য আকাশ থেকে খাদ্য ও পানীয় সরবরাহ করা এবং আইএসআইএল-এর উপর হামলা চালানো৷ ত্রাণ বণ্টনের কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে৷ তাদের আগ্রাসী অভিযানের ফলে ইয়াজিদিরা অবরোধের মুখে পড়েছে৷ মাউন্ট সিঞ্জার এলাকায় খোলা আকাশের নীচে অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে তারা৷ খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষও ভিটেমাটি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে৷ তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহর কারাকশ-ও এখন আইএসআইএল-এর দখলে৷

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যে দক্ষিণে প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকির শিয়া-প্রধান প্রশাসন অতীতের দ্বন্দ্ব ভুলে উত্তরের কুর্দি পেশমার্গার যোদ্ধাদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে৷ এবার ইরাকি সেনাবাহিনী ও কুর্দি যোদ্ধাদের সাহায্য করতে বিমান হামলা চালাতে পারে মার্কিন বাহিনীর এয়ার আর্মাডা৷ আরবিল শহরে মার্কিন কনসুলেট বিপন্ন হলে অথবা ইরাকের অন্য প্রান্তে কোনো মার্কিন স্থাপনার উপর হামলার আশঙ্কা দেখা দিলেও অ্যামেরিকা আক্রমণ চালানোর হুমকি দিয়েছে৷

কট্টরপন্থি সুন্নি গোষ্ঠী আইএসআইএল সিরিয়া ও ইরাকে এক ইসলামি খেলাফত প্রতিষ্ঠা করতে চায়৷ তাদের চরমপন্থি মতাদর্শের সঙ্গে একমত না হলেই চলে হামলা ও নিপীড়ন৷ বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন চালিয়ে তাদের তাড়িয়ে দেয় তারা৷

সুন্নিদের সন্ত্রাসবাদী সংগঠন ইসলামিক স্টেট ইন ইরাক অ্যান্ড সিরিয়া (আইএসআইএল) উত্তর ও দক্ষিণ ইরাকের কিছু অংশ দখল করে নিয়েছে৷ বাগদাদ থেকে ১৪০ কিলোমিটার দূরের শহর টিকরিটও এখন তাদের দখলে৷ সে এলাকায় ইরাক সরকারের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের জন্য আইএসআইএল যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে লড়ছে সেনাবাহিনী৷

নির্দিষ্ট কয়েকটি ক্ষেত্রে সামরিক হামলা চালানোর ছাড়পত্র দিলেও ওবামা আবার ইরাকে পুরোপুরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে চান না৷ বিশেষ করে ইরাকের মাটিতে মার্কিন স্থলবাহিনীর কোনো উপস্থিতি দেখতে চান না তিনি৷ মার্কিন জনগণের মনে বুশ আমলের ইরাক অভিযানের ক্ষত এখনো দূর হয়নি। সূত্র: বিবিসি

ঢাকা, ৮ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমএ