জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের যৌন নিপীড়নের ঘটনায় প্রথমবারের মতো তিন সৈনিকের বিচার শুরু হয়েছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে।
যুক্তরাজ্যের গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে শান্তিমিশনে থাকা কঙ্গোর ওই তিন সৈনিককে সোমবার কিনশাসার উত্তরে সামরিক বাহিনীর একটি কারাগার থেকে কয়েদীদের নীল পোশাকে এনডোলোর বিশেষ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
ডিআর কঙ্গোর আরও ১৮ সৈনিককে এদিন এ আদালতে হাজির করা হয়; তাদের বিরুদ্ধেও ধর্ষণ ও ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে।
প্রথম বিচারের মুখোমুখি হওয়া সার্জেন্ট জ্যাকসন কিকোলার বিরুদ্ধে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণ এবং নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
সার্জেন্ট মেজর কিবেকা মুলাম্বা জুমাকেও একই ধরনের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে। আর সার্জেন্ট মেজর এনসাসি এনডাজুর বিরুদ্ধে আনা হয়েছে নির্দেশ অমান্য করা ও ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি লেফটেন্যান্ট এমপোশি এনগোয় আদালতে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ পড়ে শোনান। তিন আসামিই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন বলে ফ্রান্স টোয়েন্টিফোরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়।
কঙ্গোর বিচার বিষয়ক মন্ত্রী অ্যালেক্সিস থামবোয়ে মোয়াম্বা বলেন, “আমরা এ বিচারপ্রক্রিয়ায় পুরো স্বচ্ছতা চাই। হাতে গোণা কয়েকজনের কারণে পুরো সেনাবাহিনীর সুনাম নষ্ট হতে দেওয়া চলে না।”
ফ্রান্স টোয়েন্টিফোর লিখেছে, প্রতি সপ্তাহে তিনটি করে শুনানি ধরে এক মাসের মধ্যে এই বিচার শেষ করা যাবে বলে কর্তৃপক্ষ আশা করছে।
এদিকে কঙ্গো মিশনে নিয়োজিত তানজানিয়ার ১১ শান্তিরক্ষীর বিরুদ্ধেও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠেছে বলে গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
মুসলিম-খ্রিস্টান সংঘাত থামাতে ২০১৩ সাল থেকে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে বিদেশি সৈন্য অবস্থান করছে। শুরুতে ফ্রান্সের সৈন্যরা সেখানে শান্তিরক্ষায় গেলেও পরে জাতিসংঘও সেখানে শান্তিরক্ষী মোতয়েন করে। বর্তমানে সেখানে ১০ হাজারের বেশি বিদেশি সৈন্য কাজ করছেন।
চলতি বছর জানুয়ারিতে জাতিসংঘের এক সংবাদ সম্মেলনে শান্তিরক্ষীদের যৌন নিপীড়নের ১২টি অভিযোগ তুলে ধরা হলে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তৈরি হয়।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের কর্মী আইডা সয়ার বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসানের পথে এটি প্রথম ও ভালো একটি পদক্ষেপ। ‘সত্যিকার বিচার’ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব দেশকেই এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
ওএফ





