দখলদার ইসরাইলের গোটা ভূখণ্ড হামাসের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের একজন সিনিয়র সেনা কমান্ডার।

ইসলামি রেভ্যুলুশনারি গার্ড বাহিনী- আই আর জি সি’র ডেপুটি কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন সালামি আজ (রোববার) তেহরানে বলেছেন, “আজ গোটা অধিকৃত ভূখণ্ড (ইসরাইল) ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় রয়েছে।

হোসেইন সালামি বলেন, ফিলিস্তিনের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের মিসাইল যখন ইসরাইলের হাইফা শহরে আঘাত হানছে, তার মানে ১৬০ কিলোমিটার দূরে আঘাত হানতে সক্ষম হামাসের রকেট। এর অন্য অর্থ হলো-গোটা যায়নবাদী ইসরাইলই আজ হামাসের হামলার আওতায়।

ইরানের এই কমান্ডার যুক্তি দিয়ে বলেন, দখলদার ইসরাইল এখন আর শুধু হামলাকারীর ভূমিকায় নেই, তারা নিজেরাও আজ একইভাবে হামলায় আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত।

তিনি বলেন, এটা আজ সবার কাছে পরিস্কার যে, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের রকেটের মোকাবেলা এবং ভূ-গর্ভস্থ টানেলের সহায়তায় হামাস যে সামরিক শক্তি অর্জন করছে তা ধ্বংস করতে অক্ষম যায়নবাদী ইসরাইল।

ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা ৩২টি ভূ-গর্ভস্থ টানেল তৈরি করেছিল, যার সবগুলোই ইসরাইলি বাহিনী ধ্বংস করেছে-ইহুদীবাদীদের এমন দাবির প্রতি ইঙ্গিত করে সালামি বলেন, যদি তাই হতো তাহলে তো যুদ্ধই আর হতো না, সব ইসরাইলের নিয়ন্ত্রনে চলে যেত। কিন্তু বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন।

সালামি আরও বলেন, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধারা যেসব জায়গায় অবস্থান করছেন তার কিছুই এখনও সনাক্ত করতে পারেনি তেলআবিব। পাশাপাশি কোথায়, কোন ভবনে হামাসের রকেটের স্তুপ রাখা হয়েছে, তারও কোন হদিস করতে পারেনি উন্নত প্রযুক্তির দম্ভে পরিপূর্ণ ইসরাইলি বাহিনী।

ইরানি কমান্ডার দাবি করেন, যুদ্ধ চলা অবস্থায়ও ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধারা শত শত কিলোমিটার ভূ-গর্ভস্থ টানেল তৈরি করেছেন যার কোন খবরই যায়নবাদীদের কাছে নেই।

ইরানের প্রভাবশালী এই কমান্ডার বলেন, বাস্তব পরিস্থিতিতে এখন এটাই প্রতীয়মান হয় যে, ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ যোদ্ধারা বুদ্ধিবৃত্তিতে নিজেদের এতটাই পরিপক্ক করেছে যে যায়নবাদী শক্তি আজ তাদের হাটুর নিচে অবস্থান করতে বাধ্য হয়েছে।

সালামি আশা প্রকাশ করেছেন, শিগগিরই ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের বাসিন্দারাও গাজার পথ অবলম্বন করবেন এবং দখলদার ইসরাইলিদের বিপক্ষে অস্ত্র ধারন করবেন। পশ্চিত তীর কেন এখনও পাথর দিয়ে যুদ্ধ করবে-এমন প্রশ্ন তুলে ইরানি কমান্ডার বলেন, যেখানে গাজার যোদ্ধারা আজ মিসাইল ও ড্রোনের অধিকারী।

ইরানের এই কমান্ডার ২০০৬ সালে লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ৩৩ দিনের যুদ্ধে ইসরাইলের পরাজয়ের কথা স্মরন করিয়ে দিয়ে বলেন, যায়নবাদীদের দম্ভ ওইসময়ই চূর্ণ হয়েছে। তাদের এখন আর এটা বলার কোন অধিকার নেই যে তাদের সামরিক বাহিনী শক্তিমত্তার দিক দিয়ে বিশ্বে ৫ম স্থানের অধিকারী।

২০০৬ সালে হিজবুল্লাহর ওই প্রতিরোধই গাজাবাসীকে প্রেরণা যুগিয়েছিল এবং তারা পরবর্তীতে ২০০৮ সালে ২২ দিনের ইসরাইলি আগ্রাসনকে শক্তহাতে প্রতিহত করছিলেন। পরবর্তীতে ২০১২ ইসরাইলের আরেক দফা নারকীয় হামলার জবাব গাজার প্রতিরোধ যোদ্ধারা আগের চেয়েও জোরালোভাবে দিয়েছিলেন।

ঢাকা, ১০ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, কেবি