পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভকারীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ রোববারও অব্যাহত রয়েছে। সংঘর্ষে ৩ জন নিহত ও সাড়ে ৩শ’ জন আহত হয়েছে। 

রাজধানী ইসলামাবাদের পুলিশ প্রধান খালিদ খাত্তাক বিবিসি'কে জানিয়েছেন, প্রায় ১০০ বিক্ষোভকারীকে 'কুঠার, হাতুরি ও ছুরিসহ" আটক করা হয়েছে।

রাজধানী ইসলামাবাদে শরিফের বাসভবনের কাছে শনিবার রাতে সংঘর্ষের পর রোববার সকালে বিক্ষোভকারীরা পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করলে ফের তাদের ওপর কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ।

দুর্নীতি ও নির্বাচনে জালিয়তির অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের পদত্যাগের দাবিতে ইসলামাবাদের সুরক্ষিত রেড জোনে দুই সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ করছে জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খানের দল পাকিস্থান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) ও ধর্মীয় নেতা তাহির-উল-কাদরির দল পাকি¯তান আওয়ামী তেহরিক (পিএটি) দলের সমর্থকরা। প্রধানমন্ত্রী তার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ প্রত্যাখান করেছেন।

এদিকে, পাকিস্তানে চলমান সংকটের বিষয়ে রোববার বৈঠক করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান এবং উর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা। বিবিসি'র সাংবাদিক ইলিয়াস খান রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে জানান, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সেনাবাহিনী ক্ষমতা গ্রহণ করতে পারে-জনসাধারণের মনে এমন আশঙ্কা বিরাজ করছে।

ইসলামাবাদ পুলিশ প্রধান খালিদ খাত্তাক বলেছেন, বিক্ষোভকারীরা মিছিল সহকারে শরিফের সরকারি বাসভবনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় প্রায় ১শ’ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। 

তিনি বলেন, ‘বিক্ষোভকারীদের অনেকের কাছে কুড়াল, হাতুড়িসহ দেশীয় অস্ত্র ছিল এবং আমি নিশ্চিত তাদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্রও ছিল। তবে আমরা তা দেখি নি।’

ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সাইন্স হাসপাতালের মুখপাত্র ড. ওয়াসিম খাজা বলেন, সংঘর্ষের সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বিক্ষোভকারী নাভিদ রাজ্জাক মারা গেছেন। তিনি তাহির-উল-কাদরির দলের সমর্থক ছিলেন।

শনিবার রাতে ইসলামাবাদে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এরপর মধ্যরাতে তা ছড়িয়ে পড়ে পুরো ইসলামাবাদ, লাহোর ও করাচি শহরে।

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল রাহিল শরিফ শুক্রবার চলমান অচলাবস্থার মধ্যে মধ্যস্থতার কথা বলেন।
এদিকে সংকট নিরসনে সরকারের সঙ্গে ইমরান খানের আলোচনা শেষ হয়েছে। এক মন্ত্রী বলেন, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা অচলাবস্থা নিরসনে সবরকম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বরা হয়েছে, শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রেড জোন থেকে প্রায় আড়াই হাজার বিক্ষোভকারী প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের বাসভবনের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে। তাদের সাথে ইমরান খান ও তাহির-উল-কাদরিও ছিলেন।

বিক্ষোভকারীরা নওয়াজ শরিফের বাসভবনের দিকে যেতে চাইলে পুলিশ তাদের প্রথমে বাধা দেয়। অবস্থা বেগতিক দেখে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ও এক পর্যায়ে গুলি ছোড়ে। বিক্ষোভকারীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছুড়তে থাকলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
রোববার বিক্ষোভকারীরা পুনরায় নওয়াজ শরিফের সরকারি বাসভবনের দিকে যেতে চাইলে ফের সংঘর্ষ বেধে যায়।

প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। সূত্র: এএফপি, বিবিসি

ঢাকা, ৩১ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, টিআই