কিউবায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে রোগী শনাক্ত করছেন মেডিকেল শিক্ষার্থীরা। কেউ আক্রান্ত হলে বাড়িতেই তাকে সেবা দিচ্ছেন। ওষুধ-পথ্য আছে কিনা, খোঁজখবর নিচ্ছেন। অধিবাসীদের কেউ বিদেশিদের সংস্পর্শে এসেছে কিনা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে কিনা এমন নানা প্রশ্ন করছেন।

ছোট্ট দেশজুড়ে এভাবে সেবা দিয়ে চলেছেন প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষার্থী। মহামারী শুরু হওয়ার পরপরই নজিরবিহীন এ পদক্ষেপ নেয় দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। শুধু তাই নয়, করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে চিকিৎসক পাঠাচ্ছে দেশটির সরকার। এ মূহূর্তে অন্তত ৫৯টি দেশে ২৯ হাজারের বেশি কিউবান ডাক্তার রয়েছে। মহামারী ছড়িয়ে পড়া আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার দরিদ্র ও নিন্মআয়ের দেশগুলোতে মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে। একেবারে বিনামূল্যে সেবা দিচ্ছেন হাজার হাজার ডাক্তার।

যুক্তরাষ্ট্রের ছয় দশকের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা সত্তে¡ও স্বাস্থ্যসেবায় ব্যাপক উন্নতি করেছে কিউবা। করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে নিজেদের বিখ্যাত স্বাস্থ্যসেবার ওপর নির্ভর করছে দেশটির জনগণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, দেশটিতে প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য ৮২ জন চিকিৎসক রয়েছেন।

যেখানে রাশিয়ায় রয়েছে ৪০ জন, যুক্তরাষ্ট্রে ২৬ ও চীনে ১৮ জন। কিউবার অর্থনীতি মূলত পর্যটনশিল্পের জন্য টিকে আছে। এজন্য করোনার মহামারীর পদধ্বনিতেও ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে সবার পরে সীমান্ত বন্ধ করেছে দেশটি। কিউবায় ২৪ মার্চ প্রথম করোনা ধরা পড়ে। এখন পর্যন্ত ২১২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে মাত্র ছয়জনের। এছাড়া প্রায় ২ হাজার ৮০০ জনকে আলাদা করে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

হাভানার পার্শ্ববর্তী ভেদাদো এলাকার দায়িত্ব পেয়েছেন ৪৬ বছর বয়সী চিকিৎসক লিজ কেব্যালেরো গঞ্জালেজ। দু’জন শিক্ষার্থী সঙ্গে নিয়ে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন তিনি। ওই এলাকায় প্রায় ৩০০ পরিবারের বাস। চিকিৎসক কেব্যালেরো গঞ্জালেজ বলেন, ‘ধনী দেশের মতো আমাদের প্রযুক্তি নেই। তবে আমাদের নিঃস্বার্থ, মানবিক ও যোগ্য মানুষ রয়েছে।’ তবে দ্বারে দ্বারে ঘুরে এভাবে সেবা দেয়ার এ পদ্ধতি কিউবায় মোটেই নতুন নয়। যেকোনো সংক্রামক রোগের সময়েই চিকিৎসকরা এটা করেন। এভাবে বাড়ি বাড়ি ঘুরে সেবা দিচ্ছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সুসানা দিয়াজ (১৯)।

তিনি বলেন, ‘আমরা দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি। সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাসে ডেঙ্গুর সংক্রমণ রোধে আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেবা দিই। করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেবা দিতে বলেছে।’

দিয়াজ বলেন, ‘কাশি বা জ্বরের মতো যেকোনো সন্দেহজনক অসুস্থতা দেখলেই স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে জানানো হচ্ছে। আমরা যা করছি, সেজন্য অনেকেই আমাদের ধন্যবাদ দিচ্ছে।’ স্থানীয় এক বাসিন্দা মাইতি পেরেজ (৩০) বলেন, ‘কিউবায় সবাই চিকিৎসকদের ভালোবাসেন।’ চিকিৎসাবিজ্ঞানের একজন শিক্ষার্থী তার বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার পরে তিনি বলেন, ‘আমি খুব খুশি। তারা আমাদের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর রাখছেন।

এমআর