নির্মম। নিষ্টুরতা। নিজ সন্তানকে পুড়িয়ে মারার কথা হয়ত কেউ ভাবতেও পারেনা। তথ্য প্রযুক্তির যুগে এমন ঘটনা বিরল। তবে এখনও মানুষরুপি পাষান্ড,ইতরের সংবাদ মাঝে মাঝে শুনা যায়। এক্কেবারে মধ্যযুগীয় কায়দায় এবার নিজ সন্তান ও স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারল ভারতীয় এক নরপশু।  তিনি চাইছিলেন ছেলেশিশু। কিন্তু হয়েছে মেয়েশিশু। এই অপরাধে (!) নবজাতক মেয়েসহ স্ত্রীকে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে মারা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যে।শনিবার এই ঘটনার সংবাদ চাউর হয়।
ঘটনার সময় আনু দেবী (২২) তার নবজাতক মেয়েকে স্তন্যদান করছিলেন। এ সময় তার স্বামী গুঞ্জন তাদের ওপর কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। ঘটনাটি যাতে দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেয়া যায়, সেজন্য মা ও মেয়েকে চুলার পাশে রেখে দেয়া হয়।

পরের দিন  সকালে স্থানীয় এক লোক বাড়ির উঠানে মা ও মেয়েকে পড়ে থাকতে দেখেন। দেহের ৯০ ভাগ পুড়ে যাওয়া সত্ত্বেও তখনো তারা জীবিত ছিলেন। তাদেরকে হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান।

স্বামী পলাতক রয়েছেন। স্বামীর মা-র বিরুদ্ধেও উস্কানি দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনিও পলাতক। আনুর বাবা রঘুনি রানা জানিয়েছেন, এক বছর আগে তার মেয়ের বিয়ে হয়েছিল।
সংসার ভালোই চলছিল। কিন্তু মেয়েশিশুর জন্মের পরই সমস্যার সূচনা। শুরু হয় নানা ধরনের নির্যাতন। এমনকি নতুন করে যৌতুক হিসেবে একটি টিভি ও একটি মোটরসাইকেলও চায়। অথচ আগেই তাদেরকে যৌতুক হিসেবে দুই বিঘা জমি দেয়া হয়েছিল। ভারতে যৌতুকের কারণে প্রায়ই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকে। গত বছর প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১২ সালে যৌতুকের বলি হয়েছিলেন আট হাজার ২৩৩ নারী।
সূত্র : মেইল অনলাইন।
ঢাকা, এএম, ২ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম)