আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের সবচেয়ে নিরাপদ স্থানগুলোর একটি পাঁচ তারকা হোটেল 'হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে' হামলা চালিয়েছে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা।

এতে প্রাথমিকভাবে ৫ জন নিহত ও ৮ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানায় প্রশাসন। 

ভিআইপি বিধায় হোটেলে অনেক মানুষের সমাগম ছিল এবং হোটেলে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানও চলছিল বলে জানায় হোটেল কর্তৃপক্ষ। যাদের মধ্যে অনেকে পালিয়ে আসা সম্ভব হলেও বাকিগুলো বন্দুকধারীদের কাছে জিম্মি অবস্থায় আছে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে হামলাকারীরা গোলাগুলি চালাচ্ছে এবং হোটেলের বিভিন্ন তলায় অগ্নিকাণ্ড ঘটাচ্ছে। কমপক্ষে চার বন্দুকধারী শনিবার রাতে হোটেলটিতে হামলা চালায়।

হামলাকারীরা হোটেলের ভেতর অনেককে জিম্মি করে রেখেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, হোটেলের অতিথি ও কর্মচারী অনেকে পালিয়ে বের হতে সক্ষম হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন হোটেলটির ম্যানেজার হারিস নায়েব।

তিনি জানিয়েছেন, হামলাকারীরা ভেতরে ঢুকেই গুলি করতে শুরু করে। এ সময় যে যেদিকে পেরেছে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। হতাহতের বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেন নি।

আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাজিব দানিশ বলেন, হামলাকারীরা হোটেলের রান্নাঘর দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেছে। এদের মধ্যে আত্মঘাতী হামলাকারী রয়েছে বলে মনে হয়েছে।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, হামলাকারীরা হোটেলের কয়েকজন কর্মচারী এবং অতিথিদের জিম্মি করে রেখেছে। উল্লেখ্য, একদিন আগেই হোটেলে সন্ত্রাসী হামলার সম্ভাব্য ঝুঁকির সতর্কতা দিয়েছিল কাবুলস্থ মার্কিন দূতাবাস।

২০১১ সালেও হামলার শিকার হয়েছিল কাবুলের বিলাসবহুল এ হোটেল। সেবার হামলার দায় স্বীকার করে তালেবান। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী শনিবার রাতের হামলার দায় স্বীকার করেনি।

প্রসঙ্গত, কাবুলের এ হোটেলের নাম ইন্টারকন্টিনেন্টাল হলেও তা ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলস গ্রুপের (আইএইচজি) অংশ নয়। ২০১১ সালে আইএইচজি এক বিবৃতিতে জানায়, কাবুলের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ১৯৮০ সাল থেকে তাদের অংশ নয়।

জেড