আমেরিকার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ক্রিমিয়াতে গণভোটে অধিকাংশ মানুষ ইউক্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে রাশিয়া ফেডারেশনে সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে। কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, এ পর্যন্ত অর্ধেক ভোট গণনা করা হয়েছে এবং এর মধ্যে ৯৫ শতাংশেরও বেশি ভোটার রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়া পক্ষে মত দিয়েছেন।
আমেরিকা ও ইউরোপ এই গণভোটের কঠোর সমালোচনা করেছে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা জানিয়েছেন, আমেরিকা এবং এর পশ্চিমা মিত্ররা রাশিয়ার ওপর অবরোধ আরোপের বিষয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই গণভোটকে আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বলে দাবি করেছেন।
গণভোটের পর ক্রিমিয়ার মূল শহর সিমফেরোপোলের লেনিন স্কয়ারে সমবেত হয়ে হাজার হাজার মানুষ আনন্দ উৎসব করেছে।
ক্রিমিয়া অঞ্চলটির ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী সের্গেই আকসেনভ, ইন্টারফ্যাক্স নিউজ এজেন্সিকে জানিয়েছেন যে, ক্রিমিয়া যত দ্রুত সম্ভব রাশিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত হবে।
আকসেনভ জানিয়েছেন, সোমবার ক্রিমিয়ার পার্লামেন্ট সদস্যদের একটি দল নিয়ে তিনি মস্কো যাবেন এবং সেখানে গিয়ে তিনি রুশ ফেডারেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবেন। এছাড়া ক্রিমিয়াতে সামনের সপ্তাহের মধ্যে ইউক্রেনের মুদ্রা হৃভনিয়ার সঙ্গে সঙ্গে রুশ মুদ্রা রুবল চালু করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
তবে, আমেরিকা এবং ইউরোপের আপত্তি হুমকি উপেক্ষা করেই ইউক্রেন থেকে বিছিন্ন হয়ে, রাশিয়া ফেডারেশনে যোগ দেয়ার পক্ষে, ক্রিমিয়াতে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার পর, ব্রাসেলসে ইইউ এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বৈঠকে নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন তারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ডাচ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রানস টিমেরম্যান বলেছেন, এখন পর্যন্ত রাশিয়ার আচরণ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এর জবাবে এখন অবরোধ আরোপের কথা ভাবা হচ্ছে, আর এ ধরনের অবরোধে সব সময় সাধারণ মানুষ ভুক্তভোগী হয়। কিন্তু এখন একমাত্র রুশ নাগরিকেরাই এই পরিস্থিতি ঠেকাতে পারে।
তবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এর মধ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন যে, তিনি ক্রিমিয়ার জনগণের ইচ্ছার প্রতি সম্মান দেখাবেন। সূত্র: বিবিসি
[b]ঢাকা, ১৭ মার্চ (টাইমনিউজবিডিডটকম) // ইএইচ [/b]