তুরস্কে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের পর দেশটিতে সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তকে অগ্রহণযোগ্য ও আগ্রাসী বলে আখ্যায়িত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

এক বিবৃতিতে ইইউ-এর জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি ফেদেরিকা মোগরিনি এবং কমিশনার জোহানেস হান বলেন, তুরস্কে জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্তে তারা ভীষণ উদ্বিগ্ন।বিবৃতিতে আরো বলা হয়, এ ধরনের পদক্ষেপ তুরস্কের নেতৃত্বকে আরো কর্তৃত্ববাদী করে তুলবে।

ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের জেরে দেশটিতে হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।ইইউ-এর এই দুই শীর্ষ কর্মকর্তা তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিজেপ তায়িপ এরদোয়ানকে আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং জনগণের স্বাধীনতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।

তুরস্ক ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশন স্থগিত করার সিদ্ধান্তের বিষয়েও তারা সতর্ক করেন।এর আগে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাঙ্ক-ওয়াল্টার স্টেইনমেয়ার তুরস্কের প্রতি অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার প্রতিক্রিয়ায় অনুভূতিসম্পন্ন আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন।

ফ্রান্সও তুরস্কের এই ধরনের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে উচ্চকণ্ঠ হয়েছিল। কিন্তু ততোধিক উচ্চকণ্ঠে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে “নিজের চরকায় তেল” দিতে বলেছেন।

গেল শুক্রবার রাতে তুর্কি সামরিক বাহিনীর একটি অংশ ক্ষমতা থেকে এরদোয়ানকে উৎখাতের চেষ্টায় বিদ্রোহ করে। কিন্তু সামরিক বাহিনীর সব অংশ সমভাবে সাড়া না দেওয়ার পাশাপাশি এরদোয়ান ও তার সহকর্মীদের তড়িৎ পদক্ষেপে অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয়।

বুধবার রাজধানী আঙ্কারার প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে নিজের মন্ত্রিসভাকে সামনে রেখে টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত এক ঘোষণায় এরদোয়ান জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।

তিন মাসের এই জরুরি অবস্থাকালে ‘সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে থাকা সকল ভাইরাস পরিষ্কার করার’ কথা জানান তিনি।জরুরি অবস্থার নিয়মকানুন গ্যাজেট আকারে প্রকাশের পর থেকে জরুরি অবস্থা কার্যকর হতে শুরু করবে। এর মাধ্যমে পার্লামেন্টের অনুমোদন ছাড়াই নতুন আইন জারি ও প্রয়োজন হলে নাগরিক অধিকার স্থগিত বা সীমিত করতে পারবেন প্রেসিডেন্ট ও তার মন্ত্রিসভা।

ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর গ্রেপ্তার হাজার হাজার ব্যক্তির আটকাদেশ দীর্ঘায়িত করতেও জরুরি অবস্থার শরণ নেওয়া যাবে।“এই পদক্ষেপ কোনোভাবেই গণতন্ত্র, আইন ও স্বাধীনতার বিরুদ্ধে নয়,” বলেন এরদোয়ান।

সরকারি তথ্যানুযায়ী, অভ্যুত্থান প্রতিরোধ করতে গিয়ে অন্ততপক্ষে ২৪৬ জন নিহত হয়েছেন। অভ্যুত্থান চেষ্টার প্রতিক্রিয়ায় এরই মধ্যে ৬০০ স্কুল বন্ধ ও হাজার হাজার রাষ্ট্রীয় কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

তুর্কি গণমাধ্যমের বরাতে বিবিসি বলছে, দেশটিতে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ১৫,২০০ জন কর্মীকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ২১,০০০ জন শিক্ষকের লাইনেন্স বাতিল করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১,৫৭৭ জন ডিনকে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে। ৮,০০০ পুলিশকে অপসারণ করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ১,৫০০ জন কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ২৫৭ কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

জেড