স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা সম্বলিত সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করায় জম্মু-কাশ্মীরে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন।

গতকাল (২০ আগস্ট) মঙ্গলবার তিনি ওই প্রস্তাবের কথা বলেন। এর আগেও দু’বার কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

ফ্রান্সে জি সেভেন সম্মেলনে এই বিষয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কথা বলবেন বলেও  ট্রাম্প জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) হোয়াইট হাউসে এক সাংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “আমার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদির দেখা হবে। চলতি সপ্তাহের শেষে আমরা ফ্রান্সে থাকব। কিছুদিন আগেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এখানে এসেছিলেন। তাঁদের দু’জনের সঙ্গেই আমার ভালভাবে কথা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “কাশ্মীরের পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন। দীর্ঘদিন ধরেই সেখানে সমস্যা চলছে। আমি সাহায্য করতে চাচ্ছিলাম। কিন্তু দু’দেশের মধ্যে অনেক সমস্যা আছে। আমি মধ্যস্থতা করতে পারি। কিন্তু এই দুই দেশ এই মুহূর্তে বন্ধু নয়। জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কাশ্মীরের পরিস্থিতি এখন বিস্ফোরক। আমি গতকাল প্রধানমন্ত্রী খান ও প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা দু’জনেই আমার বন্ধু। তাঁরা ভাল মানুষ এবং নিজেদের দেশকে ভালবাসেন।”

ট্র্যাম্পের মতে, ধর্মের কারণেই সমস্যা তৈরি হয়েছে। ধর্ম অত্যন্ত জটিল বিষয়। এখন হিন্দু ও মুসলিমদের সম্পর্ক ভাল নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। 

পাকিস্তান ৩৭০ ধারা বাতিল ও রাজ্যটি পুনর্গঠনের তীব্র বিরোধিতা করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে পাল্টা জবাবে একে অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মন্তব্য করে পাকিস্তানের বিরোধিতাকে নাকচ করে দেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, গতকাল (মঙ্গলবার) সেদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করে নেওয়ার ভারতীয় সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে তারা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে যাবেন।

এদিকে, মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) ফ্রান্সের ইউরোপ ও পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রী জিন-ইভেস-লে দ্রিয়ান পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশিকে ফোন করে এটি দ্বিপক্ষীয় বিষয় এবং সংলাপের মাধ্যমেই শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে বলে জানান। প্রধানমন্ত্রী মোদি ওই ইস্যুতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে ফোন করেছেন । এর আগে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ফোন করে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব মার্ক এস্পারের সঙ্গে কথা বলেছেন।

মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিন (মিম) প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কাশ্মীর ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কথা বলায় তার সমালোচনা করেছেন।

তিনি বলেন, “আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছি যে কাশ্মীর দ্বিপক্ষীয় ইস্যু। এ নিয়ে ভারতের বেশ স্থিতিশীল অবস্থান রয়েছে। এরপরেও প্রধানমন্ত্রী মোদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে কথা বলার এবং এ বিষয়ে  নালিশ করার দরকার কী ছিল?”

ওয়াইসি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী কাশ্মীর নিয়ে ফোনে ট্র্যাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। ট্রাম্প আমাদের জন্য কী? উনি কী বিশ্বের পুলিশকর্মী না কোনও চৌধুরী (স্ট্রংম্যান)? কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্র্যাম্পের সঙ্গে ফোনে কমপক্ষে ৩০ মিনিট ধরে কথা বলেছেন।

সেই প্রসঙ্গেই ওয়াইসি ওই মন্তব্য করেছেন। তার মতে, এটা দ্বিপক্ষীয় ইস্যু এখানে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের অনুমতি নেই।

 

উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা সম্বলিত সংবিধানের ৩৭০ ধারা ও ৩৫ ধারা বাতিল করে গোটা কাশ্মীরকে একতরফাভাবে দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করে ভারতের উগ্র-হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার।

 

এরপর থেকেই ১৪৪ ধারা জারি করে ভারত সরকার। তবে ধারা বাতিলের একদিন পর থেকেই ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বিক্ষোভ করেছে কাশ্মীরিরা। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে অনেকেই নিহত হয়েছে। কিন্তু ভারত সবসময়ই বিক্ষোভের কথা অশিকার করে আসছে। এর ফলে কাশ্মিরে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয় এবং সম্ভাব্য গোলযোগ প্রতিহত করতে সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েন করা হয়।

 

ভারত সরকার জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নিলে তীব্র প্রতিবাদ জানায় পাকিস্তান। ভারতের পদক্ষেপের কারণে ওই অঞ্চলে উদ্ভূত সংকটের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে জরুরি বৈঠকে বসার আহ্বান জানায় পাকিস্তান। কাশ্মীর প্রশ্নে ভারতের পদক্ষেপকে দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে অভিহিত করা হয়েছে।

 

চীনও পাকিস্তানের পক্ষে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে বৃহস্পতি বা শুক্রবার কাশ্মীর নিয়ে বৈঠকে বসার আহ্বান জানায়। এরফলে জম্মু-কাশ্মীরের চলমান সংকট নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক ডেকেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ (ইউএনএসসি)। শুক্রবার (১৬ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় কাশ্মীর সংকট নিয়ে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।

 

এমবি