গত সপ্তাহে ভারতের ছত্তিসগড়ের বিলাসপুরের জন্মনিয়ন্ত্রন শিবিরে অস্ত্রোপচারের পর যে ১৭ মহিলার মৃত্যু হয়েছিল তাদের ওযুধে ইঁদুর মারার বিষে ব্যবহৃত রাসায়নিক থাকতে পারে বলে প্রাথমিক তদন্তে মনে করছেন সরকারি কর্মকর্তারা।
ল্যাবে ওষুধের পরীক্ষার পর জানা গেছে, অ্যান্টিবায়োটিক ট্যাবলেট সিপ্রোফ্লক্সেসিন ৫০০-এ জিঙ্ক ফসফাইড-এর মতো ভেজালের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এই জিঙ্ক ফসফাইড রাসায়নিকটি মূলত ইঁদুর মারার বিষে ব্যবহৃত হয়।
রায়পুরের ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা মহাবর ফার্মা থেকে এই ওষুধটি প্রথম বাজেয়াপ্ত করা হয়, তারপর তা পরীক্ষার জন্য ল্যাব-এ পাঠানো হয়।
বিলাসপুরের চিকিৎসকদের কথায়, জিঙ্ক ফসফাইড-এ মানব শরীরে যে ধরণের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, জন্মনিয়ন্ত্রক শিবিরে অস্ত্রোপচারের পর অসুস্থ মহিলাদের মধ্যে সেই একই লক্ষণ দেখা গিয়েছিল। অস্ত্রোপচারের পর রোগীনিদের বমি বমি ভাব, প্রচণ্ড বমি, তলপেটে ব্যথার কথা জানিয়েছিলেন।
যে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের কারও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে, কারও বা কিডনি কাজ বন্ধ করে দেয়া বা শ্বাসযন্ত্র কাজ বন্ধ করে দেয়ার ফলে মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, ‘এ ধরণের রাসায়নিকের ফলই হল উচ্চ মৃত্যুহার’।
বিলাসপুরের কমিশনার সোনমনি বোরা জানিয়েছেন, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে এই ধরণের ৪৩ লাখ ওষুধ বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।
এই সবকটি ওষুধই মহাবর ফার্মার। এই ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থার কর্মকর্তা রমেশ মহাবর এবং তার ছেলে সুমিতকে গ্রেফতার করেছে রায়পুর থানার পুলিশ।
এদিকে, শনিবার কংগ্রেসের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধী বিলাশপুরে পৌঁছান। রাহুল অসুস্থ মহিলা এবং মৃত পরিবারের আত্মীয়স্বজনদের সাথে দেখা করে সমবেদনা জানান। তাঁর সাথে প্রদেশ কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট ভুপেশ বঘেল, সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চরন দাস মোহন্ত এবং এস সিংহ দেব ছিলেন।
বলাবাহুল্য, জন্মনিয়ন্ত্রন শিবিরে অপারেশন করার পরে মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। মৃতদের পরিবারকে ৪ লাখ টাকা এবং গুরুতর অসুস্থদের ৫০ হাজার টাকা করে সাহায্য দেয়ার কথা ঘোষণা করেছেন ছত্তিসগড়ের মুখ্যমন্ত্রী রমন সিং।
উল্লেখ্য, ছত্তিসগড়ের বিলাশপুর এলাকার একটি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জন্মনিয়ন্ত্রন শিবিরে অপারেশন করার পরে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এই জন্মনিয়ন্ত্রন শিবিরে মোট ৮০ জনের অপারেশন করা হয়।
ইআর





