ব্রিটিশ বাংলাদেশীরা বাই টু লেট স্কীমে কড়াকড়ি আরোপের কারণে নতুন বাড়ি ক্রয় করার সময় ক্ষতির সম্মুখীন হবে। বাই-টু-লেট’ স্কীমে মর্গেজ পাওয়ার শর্ত কঠিন হচ্ছে আগামী বছর হতে ।
বর্তমানে নতুন প্রথম বার বাড়ি ক্রয় করার সময় ৫ ভাগ ডিপোজিট দিতে হয় আর দ্বিতীয় বার ক্রয়ের সময় তা ২০ ভাগ ডিপোজিট হয়। আর বর্তমান সময়ের কড়াকড়ির কারণে সব ধরনের ক্রেতারাই নতুন বাড়ি ক্রয়ের সময় ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
একদিকে সরকার এই স্কীমে সুযোগ-সুবিধা কমিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে মর্গেজ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এই স্কীমে ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি কড়াকড়ি আরোপ করেছে। হাউজিং মার্কেটে যে উচ্চমূল্য বিরাজ করছে তা ঠেকানোর পাশাপাশি হঠাৎ পতনের হাত থেকে হাউজিং খাতকে রক্ষা করার জন্য এমন সতর্কতা হিসেবে এসব পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ব্যাংক অব ইংল্যান্ড ঋণ দাতাদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছে যে, ভাড়া দেয়ার উদ্দেশ্যে যারা ঘরবাড়ি ক্রয় করবেন তাদের মর্গেজ দেয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষ করে সুদের বর্তমান হার বৃদ্ধির পর এসব মর্গেজ গ্রহীতা তাদের ঋণ ফেরত দিতে পারবেন কি-না তা ভালোভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। ধারণা করা হচ্ছে বাই-টু-লেট স্কীমে যারা ইতোমধ্যে মর্গেজ নিয়েছেন, সুদের হার বৃদ্ধি করা হলে তাদের প্রতি ১০ জনের ৬ জন মাসিক মর্গেজ প্রদানে হিমশিম খাবেন।
এদিকে চ্যান্সেলার জর্জ অসবর্ণ তাঁর শীতকালীন ভাষণে ঘোষণা করেছেন যে, আসছে এপ্রিল থেকে বাই-টু-লেট স্কীমে বাড়িঘর কিনতে হলে ৩ শতাংশ স্ট্যাম্প ডিউটি দিতে হবে। এছাড়া লেট টু বাই স্কীমের সুদ প্রদানের ক্ষেত্রে বর্তমানে যে করমুক্ত সুবিধা রয়েছে ২০১৭ সাল এপ্রিল থেকে তা আর থাকবে না।
সোসাইটি এবং বিএম সলিউশন্সসহ বেশ কয়েকটি মর্গেজ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে লেট টু বাই স্কীমে মর্গেজ প্রদানের ক্ষেত্রে নানা কড়াকড়ি আরোপ করেছে। হাউজিং খাতের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী লেট টু বাই স্কীমে মর্গেজ পেতে মর্গেজের ১২৫ শতাংশ আয় হলেই চলতো। এখন ১৩৫ শতাংশ আয় হবে এমন নিশ্চয়তা পেলে তারপর মর্গেজ দেয়া হচ্ছে। অর্থ্যাৎ কোনো ঘরের মর্গেজের কিস্তির পরিমাণ যদি মাসে ১০০ পাউন্ড হয় তাহলে ওই ঘরের ভাড়া থেকে মাসে আয় আসতে হবে মাসে ১৩৫ পাউন্ড।
ব্যাংক অব ইংল্যান্ড বলেছে, ৫ শতাংশ নয় বরং মর্গেজের ওপর ৫ দশমিক ৫ শতাংশ সুদ দিতে সক্ষম হবে এমন গ্রাহকদের ঘরবাড়ি কিনতে ঋণ দিতে হবে। কেননা যে কোনো সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের বেইস হার বৃদ্ধি করতে পারে।
প্রঙ্গত, ব্রিটেনে গত ৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে সুদের বেইস হার দশমিক ৫ শতাংশ রয়েছে। এটা ব্রিটেনের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সুদের হারের রেকর্ড। ২০০৭ সালে বিশ্বব্যাপী আর্থিক মন্দা শুরু হওয়ার প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের বেইস হার কমিয়ে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার উদ্যোগ নেয়। ইউরোপের যে কোনো দেশের তুলনায় ব্রিটেনে সুদের এই বেইজ হার সর্বনিম্ন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত কয়েক মাস যাবত এই বেইস হার বাড়ানো হবে বলে আভাস দিয়ে আসছে।
এমএম





