ইরানের হয়ে সৌদি আরবে গোয়েন্দাগিরির অভিযোগে ৩২ সৌদি নাগরিকের বিচার শুরু করেছে দেশটি। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানায়, অভিযুক্তদের বেশিরভাগই সৌদি আরবের শিয়া সম্প্রদায়ের সদস্য।

ইরানী গোয়েন্দাদের সাথে গোপন সম্পর্ক এবং সৌদি আরবের সামরিক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইরানের পাচারের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাসহ আরো বেশ কয়েকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বিবিসি জানিয়েছে, ৩২ জনের বেশিরভাগই সৌদি আরবের উত্তেজনাপূর্ণ পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের বাসিন্দা। এদের মধ্যে একজন ইরানের ও আরেকজন আফগানিস্তানের নাগরিক। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান এবং সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে।

চলতি বছরের শুরুর দিকে সৌদি আরব সরকার শিয়া নেতা শেখ নিমরসহ শিয়া সম্প্রদায়ের আরো তিন সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করলে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ওই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ইরানী বিক্ষোভকারীরা তেহরানে সৌদি আরবের দূতাবাসে আগুন দিলে ইরানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে দেশটি।  

সৌদি আরবের দাবি, শিয়া নেতা নিমর সৌদি আরবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। তবে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির মতে, সৌদি রাজতন্ত্রের সমালোচনা করার কারণেই নিমরকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে।

এদিকে অভিযুক্ত ৩২ জনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাটির কার্যক্রম সৌদি আরবের রিয়াদে একটি বিশেষ অপরাধ আদালতে রোববার থেকে শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। অভিযুক্তদের ২০১৩ সালে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

রয়টার্স জানিয়েছে, অভিযুক্তদের অনেকেই শিয়া সম্প্রদায়ের জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। তারা রাজনীতির সাথে জড়িত নন। এদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক, একজন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, একজন ব্যাংকার এবং দুই আলেমও রয়েছেন।

সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশেই বাস করে সৌদি শিয়ারা। তারা দেশটির মোট জনসংখ্যার ১৫ শতাংশের কম। অনেকের দাবি, শিয়াদের প্রতি সব সময় বৈষম্যমূলক আচরণ করে সৌদি আরব সরকার।

ভিন্ন মত পোষণকারীদের সহ্য করে না সৌদি আরব সরকার। ২০১১ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে আরব বসন্তকালীন সময়ে ভিন্নমত পোষণ করার অপরাধে কমপক্ষে ২০ জনকে গুলি করে হত্যা করেছে দেশটির আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এছাড়া একই কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরো কয়েকশ লোককে। সে সময় অবশ্য গুলি এবং পেট্রোল বোমা হামলায় কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাও নিহত হয়েছিলেন।

এআই