ফরাসি পণ্য বয়কট করা থেকে বিরত থাকার জন্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ফ্রান্স। ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গতকাল রোববার এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে ফরাসি পণ্য, বিশেষত খাদ্য পণ্য বয়কটের আহ্বান জানানো হয়েছে। এর পাশাপাশি মহানবী (সা.)-এর ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন প্রকাশের বিষয়ে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে। বয়কটের এসব আহ্বান ভিত্তিহীন। অবিলম্বে এসব বন্ধ হওয়া উচিত। একটি উগ্র সংখ্যালঘু গোষ্ঠী আমাদের দেশের বিরুদ্ধে যেসব হামলা চালিয়ে যাচ্ছে; তা বন্ধ হওয়া উচিত।
উল্লেখ্য, মহানবী (সা.)-এর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের জেরে এক মুসলিম উগ্রবাদী কর্তৃক একজন ইতিহাস শিক্ষককে হত্যার পর থেকেই উত্তপ্ত ফ্রান্স। ওই ঘটনার পর অন্তত ৫০টি মসজিদ ও মুসলিম-অধ্যুষিত এলাকায় ভয়াবহ অভিযান চালায় দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। মহানবী (সা.)-এর ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তার এ ঘোষণায় মুসলিম বিশ্বে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। ইসলামের প্রতি এমন মানসিকতার জন্য ম্যাক্রোঁর মানসিক চিকিৎসা দরকার বলে মন্তব্য করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। মুসলিম দেশগুলোতে ফরাসি পণ্য বর্জনের ডাক দেওয়া হয়।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি গ্রুপ থেকে আরব দেশ এবং তুরস্কের সুপারমার্কেট থেকে ফরাসি পণ্য বর্জন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কুয়েতে আল-নাইম সমবায় সমিতির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা ফরাসি সব পণ্য বর্জন করার এবং সেগুলো সুপারমার্কেট থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দাহিয়াত আল-থুহর সমিতি একই পদক্ষেপ নিয়েছে এবং বলেছে, ‘ম্যাক্রোঁর অবস্থান এবং আমাদের প্রিয় নবীর (সা.) বিরুদ্ধে আপত্তিকর কার্টুনের পক্ষে তাঁর সমর্থনের ভিত্তিতে, আমরা ফরাসি সব পণ্য বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
কাতারে ওয়াজবাহ ডেইরি সংস্থা ফরাসি পণ্য বর্জনের ঘোষণা করেছে এবং বিকল্প সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কাতারের যৌথ স্টক সংস্থা আল মিরা কনজিউমার গুডস সংস্থা টুইটারে ঘোষণা করেছে, ‘আমরা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আমাদের তাক থেকে তৎক্ষণাৎ ফরাসি পণ্য প্রত্যাহার করে নিয়েছি।’
কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ও এই প্রচারে অংশ নিয়েছে। টুইটারে এক বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয় বলেছে, ‘ইসলামী বিশ্বাস, পবিত্রতা এবং প্রতীকগুলোর বিরুদ্ধে যেকোনো কুসংস্কার সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য, কারণ এই অপরাধ সর্বজনীন মানবিক মূল্যবোধ এবং উচ্চতর নৈতিক নীতিকে ক্ষতি করে।’
উপসাগরীয় সহযোগিতা কাউন্সিল (জিসিসি) ম্যাক্রোঁর বক্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং বলেছে, তাদের লক্ষ্য মানুষের মধ্যে ঘৃণার সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়া।
বিভিন্ন দেশে জনগণকে ফরাসি পণ্য চিহ্নিত করার উপায় বাতলে দিচ্ছেন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্টরা।
এএস





