চীনের জন্য বহুদলীয় গণতন্ত্র উপযুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। দেশটির জন্য একদলীয় শাসনব্যবস্থাই উপযুক্ত বলে মন্তব্য করেন তিনি। ইউরোপ সফরকালে মঙ্গলবার তিনি এসব কথা বলেন। চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার বরাত দিয়ে বুধবার এ খবর জানিয়েছে ওয়ার্ল্ডবুলেটিন।
বেলজিয়ামের ব্রুজেস শহরের একটি কলেজে দেয়া ভাষণে শি জিনপিং এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, চীনের জন্য পশ্চিমা বহুদলীয় গণতন্ত্র বা উন্নয়ন মডেল (ডেভালপমেন্ট মডেল) উপযুক্ত নয়। পশ্চিমা এসব তন্ত্র গ্রহণ করলে চীনে বিপর্যয় দেখা দিবে বলেও জানান তিনি।
জিনপিং বলেন, "ফলটি দেখতে একরকম হলেও স্বাদ কিন্তু ভিন্ন।" অর্থ্যাৎ, একেক জাতির জন্য একেক ধরনের শাসনব্যবস্থা প্রযোজ্য এটাই বুঝাতে চেয়েছেন তিনি।
চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, "আমরা সাংবিধানিক রাজতন্ত্র, একক রাজতন্ত্র বা একনায়কতন্ত্র, সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা, বহুদলীয় গণতন্ত্র সবগুলোই আমরা পরীক্ষা করে দেখেছি। কিন্তু কোনটিই আমাদের সাথে খাপ খায় না।"
চীনে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কেন উপযুক্ত তার কারণটিও ব্যাখ্যা করেছেন জিনপিং। তিনি বলেন, "আমাদের ঐতিহাসিক একক জাতিসত্ত্বা, সামাজিক অবস্থার জন্যই এই শাসনব্যবস্থা উপযুক্ত। চীন অন্য কোন দেশ থেকে রাজনৈতিক ব্যবস্থা বা উন্নয়নের মডেল নকল করতে চায় না। কেননা এটা আমাদের জন্য উপযুক্ত নয়, এগুলো গ্রহণ করলে আমাদের জন্য বিপর্যয় নেমে আসবে।"
চীনে ১৯৪৯ সালে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালুর দুই বছর আগেই বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। কিন্তু সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু হবার পর ন্যাশনালিস্ট পার্টি ও কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে বিরোধের জের ধরে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়ে। ন্যাশনালিস্ট বা জাতীয়তাবাদীরা বিরোধে হেরে গিয়ে তাইওয়ানে পালিয়ে যায়। সেখানে তারা ব্যাপক রাজনৈতিক সংস্কার সাধন করে এবং আশির দশকে তাইওয়ানে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করে। দেশটি এশিয়ার বহুদলীয় গণতন্ত্রের জন্য একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
চীনের সংবিধানে কমিউনিস্ট পার্টি থেকে নির্বাচিত সরকারকে দীর্ঘমেয়াদে দেশ শাসন করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যেই একটি বহুদলীয় ব্যবস্থা বিদ্যমান চীনে। এটি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমধর্মী। এক দলের ভিতরেই এই বহুদলীয় ব্যবস্থাকে বলা হয় 'বহুদলীয় সহযোগিতা ব্যবস্থা' (মাল্টি পার্টি কো-অপারেশন সিস্টেম)। কিন্তু এই ব্যবস্থায় সব দলই কমিউনিস্ট পার্টির প্রতি অনুগত।
এই ব্যবস্থা অনুযায়ী প্রতি দশ বছর পরপর কমিউনিস্ট পার্টিতে নেতৃত্বের পরিবর্তন আনা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছর দলটির নেতৃত্বে আসেন শি জিনপিং। তিনি একইসাথে কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট।
চীনের এই রকম রাজনৈতিক ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচিত হয়ে আসছে। তবে, শি জিনপিংয়ের ক্ষমতায় আসার পর অনেকেই আশা করেছিলেন তিনি রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সংস্কার আনবেন। শি জিনপিংয়ের সাদাসিধে, খোলামেলা ও মিশুক আচরণের জন্য এই ধারণা করা হয়েছিল। তাছাড়া, তিনি হলেন দেশটির সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী শি জোংশানের ছেলে। শি জোংশান ছিলেন একজন সংস্কারপন্থী নেতা।
কিন্তু যা আশা করা হয়েছিল তা করেননি শি জিনপিং। তার শাসনামলেও কয়েক ডজন ভিন্নমতাবলম্বীকে আটকে রাখা হয়েছে। এদের মধ্যে দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনের নেতা শু জিওং এবং উইঘুর মুসলিম প্রফেসর ইলহাম তোহতিও রয়েছেন। সূত্র: ওয়ার্ল্ডবুলেটিন
[b]ঢাকা, ০২ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি) //এমএ  [/b]